ধানকাটা স্বেচ্ছাসেবক

এই সময়ের ছড়া 

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

 

: এই কাটিস না, ওই কাটিস না! ধান কাটিস না জমির!

: কী হয়েছে এমন করে খেপলে কেন সমীর?

: এত বড়ো সাহস তোদের ধান কেটে নিস খেতের!

   পিঠের পরে, দেখবি, দেব নরম বাড়ি বেতের?

: নিচ্ছি কোথায়? কাটছি কেবল, খেপে গেলে এতেই,

   যা কেটেছি সব তো পড়ে আছে তোমার খেতেই।

   মাথায় করে তোমার গোলায় তুলে দেব ও ধান,

   দেশে এখন ধান কাটানোর সমস্যাটাই প্রধান।

: ও ধান আমি কাটব নিজে কাটার সময় হলেই,

: আমরা নাহয় কেটে দিলাম বসেছিলাম বলেই।

: আহা, আহা! সে কথা না—অন্য কথা আমার।

: বলতে কী চাও আছে তোমার ধান কাটারও গ্রামার?

   যেমন করেই কাটো ও ধান, কমে না গুণ ও মান

   খেতে কেমন—টেস্টি কি না—সেটাই আসল প্রমাণ।

: সে কথা না—দুর্মুখোরা, হয়নি আমার সময়—

: ব্যস্ত মানুষ সময় তোমার একটু আধটু কম হয়।

: ধুত্তুরি ছাই! সে কথা না—কী বলে যে বোঝাই,

: ও বুঝেছি, বলতে কী চাও্ত তোমার কথা সোজাই।

   আমরা পেডি-ভলান্টিয়ার ধান কেটে দেই মাঠের,

   নেই না টাকা বরং টাকা খরচ করি গাঁটের।

: সে কথা না! বলছি কথা আমার অভিজ্ঞতার।

: গুল্লি মারি তোমার ওসব আশি কালের কথার।

   তোমার সাথে প্যাঁচাল পেড়ে দেরি হলো বেজায়,

   বাজে বকা মূর্খ লোকের ভালো করতে কে যায়?

   তাকিয়ে দেখো মাঠে কেমন কাট দিয়েছি ধানের,

   লাভ যা হলো তোমার এবং তোমার পোলাপানের।

: সব্বনেশে কাজ করেছিস—এখন আমি কী খাই!

   কখন কেমন ধান কাটে আয় কানে ধরে শিখাই।

   ধানে আমার পাক ধরেনি, ফুল ধরেছে কেবল,

   ধান খাব না খাব কি ঐ ধানের ভেজিটেবল?

   পচিয়ে সারা করলি তোরা এক বছরের খাবার।

   বাড়াস নে কাজ আঁটি বেঁধে গোলায় তুলে আবার।

   আমার ছেলেপুলে বুঝি মরল তোদের থাবায়,

   রাখ গিয়ে ধান গোয়ালঘরে গোরু যদি চাবায়।