আলোকপাত

করোনা রোগীর চিকিত্সা

নুরুল আমিন

করোনা ভাইরাস আমাদের জীবনযাপন সাময়িকভাবে বদলে দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নানা রকম দুশ্চিন্তা আমাদের মানসপটে হানা দিচ্ছে। শহরের রাস্তায় বের হলেই ভাবি, কোটি কোটি মানুষ হঠাত্ কোথায় উদাও হলো! বাসায় একনাগাড়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্দি, কারখানা বন্ধ, বাচ্চাদের খেলা, স্কুল বন্ধ। আর কাহাতক ভালো থাকা যায়। তবে এ বন্দিদশায়ও ঘন ঘন কোকিলের ডাকে মন কিছুটা রোমাঞ্চিত হলেও প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

এ রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কায়মনোবাক্যে একটিই প্রার্থনা—কবে পাব এ ভাইরাসের টিকা ও আরোগ্যের ওষুধ? মাঝে মাঝে তন্ময় হয়ে ভাবি, মানুষ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে এসেও এ সামান্য ভাইরাসের কাছে কত অসহায়! কত মানুষের করুণ মৃত্যু হচ্ছে যেখানে আপনজনরা মৃতের সত্কার পর্যন্ত করতে পারছেন না। এ সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু ওষুধের খবর প্রকাশিত হলেও ডাক্তাররা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তবে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি ঘন ঘন গরম পানি খেয়ে ও নাকেমুখে গরম ভাব নিয়ে ভালো হয়েছেন বলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে খবর বের হচ্ছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেদিন ভিডিও বার্তায় ডিসিদের সঙ্গে কথা বলার সময় গরম পানির কথা বলেছেন।

আমার কথা হলো, আমরা যদি এক চিমটি লবণ আর গুড় পানিতে মিশিয়ে পান করে ডায়রিয়া মুক্ত হই, তবে গরম পানি খেয়ে ও ভাব নিয়ে তো এ ভাইরাসকে পরাজিত করতেও পারি। ষাটের দশকে কলেরায় তো লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। মানুষ তখন তো ভাবতেই পারেনি শরীরে পানি শূন্যতায় মৃত্যুর মূল কারণ এবং শূন্যতা পূরণই  জীবন। তাই করোনার চিকিত্সাও গরম পানি-আদা-লবঙ্গ ব্যবহারে থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন কোয়ারেন্টাইনে থেকে লিখেছেন, ‘আমার এক স্বজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় আমরা পরিবারের বাকি পাঁচ জন সদস্য কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম। আমি সব সময় গরম পানি খাইতাম এবং সব রকম ঠান্ডা খাবার পরিহার করেছি। গরম পানির ভাব নিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করানোই ছিল আমার এ কয় দিনের কাজ। অন্য যারা এ চিকিত্সা নেয়নি তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং একই চিকিত্সার মাধ্যমে সেরে ওঠেন।’ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষকও ইথানেল মিশানো গরম পানির ভাব নেওয়ার কথা বলেছেন যা কয়দিন আগে টিভি চ্যালেনে প্রচারও পেয়েছে।

আমেরিকায় কয়জন আক্রান্তও একই চিকিত্সায় ভালো হন বলে ইউটিউবে দেখি এবং একজন হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে গরম ভাব নেওয়ার কথা বলেছেন। তাই বলছিলাম আক্রান্তদের ওপর এ চিকিত্সা পদ্ধতি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োগ করে দেখা হউক। এবং আইইডিসিআরকে বলা হউক এ চিকিত্সা পদ্ধতি নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে  ফলাফল গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে।

n লেখক :শিল্প উদ্যোক্তা