হৈমন্তি পাল
‘করোনা’ শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আতঙ্ক, ভয়, মৃত্যু। আমরা বাংলাদেশের মানুষও এর বাইরে নই। আশা জাগায় কিছু মানুষের ভরসার কথায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ই বলে থাকেন আমরা বীরের জাতি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সহমত পোষণ করছি।
বাঙালি বীরের জাতি। এটি আমরা প্রমাণ করেছি বহুবার। আবার আরো একবার প্রমাণ করার সময় এসেছে। এজন্য আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ঠিক রেখে পরস্পর পরস্পরের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সমন্বিতভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হবে। এজন্য আমাদের সচেতন না হয়ে উপায় নেই।
আমাদের এখন ঘরে অবস্থান করতে হবে। যতটা সম্ভব বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে জীবানুনাশক সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। কারো হাঁচি-কাশি, জ্তর, সর্দি থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে নিজেকে।
একজন নারী, মা এবং স্ত্রী হিসেবে বলতে চাই, যাদের বাসায় ছোটো বাচ্চা আছে তাদের জন্য নিশ্চয়ই বিষয়টি কষ্টকর। কারণ বাচ্চারা ঘর বন্দি থাকতে চায় না। এই সময় স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা যেতে পারছে না স্কুলে, পারছে না খেলতে, ফলে ওদের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসতে হলে একজন মাকে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন বাচ্চাদের এই ভাইরাসের ক্ষতিকর দিকগুলো ভালোভাবে বোঝাতে হবে। বাচ্চাদের সঙ্গে অনেক বেশি সহজ হতে হবে, আচরণ হতে হবে বন্ধুসুলভ, বেশি সময় দিতে হবে ওদের। প্রয়োজনে একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করুন পরিবারের সবাইকে নিয়ে, যাতে ওরা ঘরে থাকাটাকে বন্দিত্ব মনে না করে বরং আনন্দ পায়। পরিবারের অন্য সদস্য বিশেষ করে পুরুষদের কথা বলব, যারা কাজের জন্য বাইরে যেতেন, তাদের কাছে ঘর বন্দি জীবনটা ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক। সুতরাং আরো একটু দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে নারীদের। কারণ এই সময়টাতে পারিবারিক সর্ম্পকগুলো যেন তিক্ত না হয়ে ওঠে। বরং পারিবারিক বন্ধন যেন আরো মধুর এবং সুদৃঢ় হয়ে ওঠে সেদিকে লক্ষ রাখাও বাঞ্ছনীয়। অন্যদিকে পুরুষদেরও বলব—সম্পক মধুর করার জন্য নারীদের একটু সহযোগিতা করুন।
একটি স্বস্তির বিষয় হলো আমাদের দেশে ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়ায়নি (আইইডিসিআর-এর তথ্য মতে)। তবে আমাদের আনন্দিত বা খুশি হওয়ার মতো কিছু হয়নি। এখনো অনেকটা সময় আমাদের সচেতন এবং সাবধান থাকতে হবে।
তাছাড়া একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে খুশি হওয়ার কথাও নয়। কারণ যেখানে সারা বিশ্ব ভালো নেই, জীবনযুদ্ধে লড়ছে, এবং মৃত্যুর মিছিল দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো দেশে। সমস্ত মানুষের সুস্থতা কামনা করি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে। আসুন আমরা সচেতন হই, নিজেকে ভালো রাখি, নিজের পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালো রাখি। সর্বোপরি সমাজ এবং দেশের মানুষকে ভালো রাখি—রোগ প্রতিরোধে সমস্ত নিয়ম মেনে রাষ্ট্র্রের নেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
রাজশাহী