নওগাঁয় বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক

নওগাঁয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ চলছে। কাটা মাড়াইয়ের শুরুতেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ধান বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি। এদিকে ধান কাটা, মাড়াই শুরু হওয়াতে এর প্রভাব পড়েছে নওগাঁর চালের বাজারে। সকল ধরনের চাল প্রতি কেজিতে গত এক সপ্তাহ থেকে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা কমে কেনাবেচা হচ্ছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, স্বল্প মূল্য সার, তেল ও কৃষিতে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ায় নওগাঁয় ১ লাখ সাড়ে ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জমিতে রোগবালাই না দেখা দেওয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০০ টাকা বেশি দরে প্রতি মণ ধান কেনাবেচা হচ্ছে। মোটা জাতের ধান ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা এবং চিকন জাতের ৭০০ টাকা থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ কেনাবেচা হচ্ছে।

এদিকে নতুন ধান বাজারের আসতেই এর প্রভাব পড়েছে নওগাঁর চালের বাজারে। নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে চিনি আতপ ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বাসমতি ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা,  সম্পা কাটারি ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পাইজাম ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা, জিরাশাইল ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা, খাটো জিরা ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, রঞ্জিত ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা, বিআর আটাশ ৪৪ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং স্বর্ণা ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায় কেনা বেচা হচ্ছে।

জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, কৃষকদের ধানের নায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ধান ও চাল বেশি কিনছে। যদি বর্তমান ধানের বাজার অব্যাহত থাকে তাহলে আগামীতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহী হবেন।               কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, নওগাঁয় ১৬ ভাগ ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। জেলায় চালে উত্পাদন নির্ধারণ ৭ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিকটন ধরা হলেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।