উচ্ছেদ আতঙ্কে ঝিনাইগাতীর সাত ভূমিহীন পরিবার

ঝিনাইগাতীর সুরিহাড়া গ্রামে উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন সাত ভূমিহীন পরিবার। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার আদালতে দেয়া একটি মিথ্যা প্রতিবেদন ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির হুমকি এ উচ্ছেদ আতঙ্কের মূল কারণ বলে জানা গেছে।

আতঙ্কগ্রস্ত পরিবারের জমর উদ্দিন, মিষ্টার আলী, তারা মিয়া, লালন মিয়া, শাহিন মিয়া ও যমুনা বেগম জানান, তাদের সাত পরিবারের বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৪০ জন। ওই পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় দারিয়া নদীর জেগে উঠা চরের এক একর ১৫ শতাংশ সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করে প্রায় ৪০ বছর যাবত্ বসবাস করে আসছেন। সহায়-সম্বল বলতে ওই জমি ছাড়া আর কিছু নেই তাদের। ওই জমি বন্দোবস্ত পেতে ইতিপূর্বে ভূমি অফিসে আবেদনও করেছেন তারা। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি ওই জমির প্রতি লোভ জাগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের। ওই মহল ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের তাদের দখলীয় জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে নানাভাবে ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি গৃহহীন পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে থেকে জমর উদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ওই জমির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত না করেই মনগড়াভাবে ওই জমিতে কোনো দখলদার বা বসতভিটা নেই মর্মে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিকে ওই মিথ্যা প্রতিবেদন এবং স্থানীয় ও প্রভাবশালীদের হুমকিতে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত।

ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জমি সরকারের, তাই অন্য কারও দখলে থাকলেও তা আমি স্বীকার করতে পারি না। উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার মাহমুদ হাসান ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।