‘দর্শকহীনতার প্রভাব পড়বে নৈপুণ্যে’

স্পোর্টস ডেস্ক

যে কোনো খেলাতেই দর্শকদের উপস্থিতি একটা বড়ো প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ফুটবলে তো আরো বেশি। এখানে নিজের আর প্রতিপক্ষের মাঠের পার্থক্য তো গড়ে দেয় দর্শক কোলাহলই! তবে কোভিড-১৯ আঘাত হেনেছে সেখানেই। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত দর্শক জমায়েত আপাতত অকল্পনীয়ই মনে হচ্ছে। আর সেটা হলে খেলোয়াড়দের পারফর্ম্যান্সেও প্রভাব পড়বে ভালোভাবেই, অভিমত সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড দিমিতার বারবাতভের। করোনার কবলে পড়ে প্রায় দুই মাস নির্বাসনে থাকার পর ধীরে ধীরে আবারও মাঠে ফেরার প্রস্তুতি চালাচ্ছে সারাবিশ্বের ফুটবল লিগগুলো। গেল শুক্রবারই যেমন শুরু হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান ফুটবল লিগ। জার্মান বুন্ডেসলিগা ফিরছে ১৬ মে। অনুশীলন শুরু করে প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ গুনছে লা লিগা ও সিরি’আও। তবে লিগগুলো ফিরলেও দর্শকদের মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা অন্তত আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত নেই বললেই চলে।

এই দর্শকহীনতা দারুণ শঙ্কায় ফেলেছে বারবাতভকে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা এই ফরোয়ার্ড সমপ্রতি বেটফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘দর্শকহীন মাঠে খেলাটা আগের মতো থাকবে না মোটেও, আর এটা সর্বজনবিদিত একটা ব্যাপার। গ্যালারিতে কোলাহলের মানুষ থাকবে না। কোচ কি বলছে, আপনার সতীর্থরা কি বলছে সেটা আপনি অনায়াসেই শুনতে পারবেন।’

বারবাতভের মতে, দর্শকপ্রিয়তাই ফুটবলের একটা পরিচয়। সেখানে দর্শকহীনতা চিরচেনা রূপটা কেড়ে নেবে খেলাটার। বুলগেরিয়ান ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘দর্শকহীন মাঠে ফুটবলের চিরচেনা আবহটা থাকবে না মোটেও। এটা সব দলের জন্যেই ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কিছু দল মানিয়ে নিতে পারবে অবশ্য; কিন্তু যারা পারবে না তারা ভুগবে, এটা নিশ্চিত।’

ফুটবলে দর্শক-সমর্থকদের দলের দ্বাদশ সদস্য হিসেবে দেখা হয়। তাদের সম্মানে অনেক সময় ক্লাবগুলো তাদের ১২ নম্বর জার্সিটাকে তুলে রাখে চিরতরে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের অভাব নিশ্চিতভাবেই ভোগাবে দলগুলোকে, অভিমত বারবাতভের।

তিনি বলেন, ‘সমর্থকরা অনেক সময় দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে, সেটা আমরা সবাই জানি। দর্শক না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে। ধরুন একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলছে, কিন্তু দর্শকহীনতার কারণে একজন খেলোয়াড়ের কাছে সেটা মনে হলো অনুশীলন ম্যাচের মতো। এর ফলে ম্যাচে তার খেলার মান পড়ে যেতেই পারে, যেটা আদৌ ভালো কিছু নয়।’