কলমাকান্দা উপজেলায় সরকারি দপ্তরের ৪৩টি পদ শূন্য থাকায় প্রশাসিনক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনা জেলাধীন কলমাকান্দা উপজেলা সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকা। সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পাহাড় অধ্যুষিত প্রকৃতির সবুজ বেষ্টনির এক অপূর্ব লীলাময় গ্রামীণ জনপথ। সরকার সোনার বাংলা গড়ার পরিক্রমা হাতে নিলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ৪৩টি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় উন্নয়নের কিঞ্চিত্ ছোঁয়া লাগলেও বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলার ১০টি সরকারি দপ্তরের প্রধান ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ ৩৩টি পদ শূন্য রয়েছে। সর্বসাকুল্যে ৪৩টি পদ শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না। বিভাগীয় প্রধানদের পদগুলো ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অধীনস্থরা বা স্বপদে অন্য উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে। দীর্ঘদিন যাবত্ এসব পদ শূন্য থাকায় এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভারে প্রশাসনিক, মনিটরিং ও তদারকি নিয়োগে অচল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে উপজেলাবাসীর ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অবসর ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অচলাবস্থার ফলে বিভাগীয় প্রধানদের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ভিজিএফ ও ভিজিডি বিতরণের জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করার জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগেও সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের দপ্তর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস যার এসিল্যান্ডের পদ শূন্য। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল অফিসারসহ ২৯টি পদের মধ্যে ২৩টি পদ শূন্য রয়েছে যার ফলে উপজেলাবাসীর চিকিত্সা সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর তিনটি পদ শূন্য থাকায় এডিবির কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নির্বাচন অফিসার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার, সহকারী মত্স্য অফিসার, কৃষি সমপ্রসারণ অফিসার, সহকারী সমবায় অফিসার, সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার— এসব পদ শূন্য রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্ট্রোক করার কারণে গুরুতর অসুস্থ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা থাকলেও অনুমোদনবিহীন ঢাকায় অবস্থান করেন। উন্নয়ন কাজে গতিশীলতা আনয়নকল্পে জরুরিভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনিক জটিলতাসহ কাজের স্থবিরতার অবসান ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।