মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে কুমিল্লায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে মোট ১৫১ জন এবং মোট সাত জনের প্রাণ ঝরেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে—করোনা সংক্রমণে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা এবং এ জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন ও মারা গেছেন ছয় জন। এদিকে করোনা প্রতিরোধে গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক এবং গত ৭ মে থেকে ঈদ-উল ফিতর পর্যন্ত সকল মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করে জেলা দোকান মালিক সমিতি। এছাড়া মানুষকে ঘরে রাখতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এতকিছুর পরও মানুষের মাঝে যেন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেও বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সংক্রমিত রোগীদের সংস্পর্শে এ জেলায় করোনা সংক্রমণ শুরু হয় এবং ক্রমান্বয়ে এর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রবিবার পর্যন্ত এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৫১ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন সাত জন। এদের মধ্যে চিকিত্সক, নার্স, চিকিত্সা সহকারী, টেকনোলজিস্ট, কৃষি কর্মকর্তা, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নানা পেশার লোকজন রয়েছেন। জানা যায়, গত ১০-১২ দিন ধরে জেলা শহরসহ উপজেলা পর্যায়ের হাটবাজারে ও রাস্তাঘাটে সরকারি নির্দেশনা, নিয়মনীতি ও সামাজিক দূরত্ব তেমন মানা হচ্ছে না। ওষুধের স্লিপ, বাজার খরচের ফর্দ কিংবা ব্যাগ হাতে নিয়ে নানা অজুহাতে যুবক, তরুণ-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষকে রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা ও আড্ডা করতে দেখা যায়। সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলও বেড়ে গেছে। কুমিল্লা জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন জানান, ‘মহানগরসহ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
এ অবস্থায় জীবিকার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই ঈদ-উল ফিতর পর্যন্ত কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ও ওষুধ দোকান ব্যতীত সকল শো-রুম, ব্যান্ডশপ, অভিজাত মার্কেট ও বিপণিবিতানসহ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।’ সনাক-কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘এমন মহামারিতেও অনেকে বিধিনিষেধ বা নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না, সামাজিক দূরত্ব মানছে না। রাস্তাঘাটে চলছে ঢিলেঢালা ভাব। হাটেবাজারেও অবাধে ভিড় করছে মানুষ। এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।’ কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কুমিল্লায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক হওয়ায় ঐ উপজেলাকে রেডজোন ঘোষণা করা হয়েছে। তবু জনগণ নিয়মনীতি মানতে চাইছে না। আইন মানাতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে।’ কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনগণ সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে বা জোর খাটিয়ে তা রোধ করা যাবে না।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’