স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্রিকেটের এই রমরমা যুগে ফুটবলের পুরোনো আমলের খেলোয়াড়ের জার্সি এমন সাড়া জাগাবে ভাবেননি প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেম। ফুটবল ভক্তদের ভালোবসায় মুগ্ধ মুন্নার স্ত্রী। করোনায় আক্রান্ত মানুষকে সহযোগিতায় মুন্নার জার্সি বিক্রি করেছেন তার স্ত্রী সুরভী। নিলামে একটি জার্সি বিক্রি করতে গিয়ে দুটি জার্সি বিক্রি করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ লাল দলে খেলা মুন্নার জার্সি বিক্রি করতে ৩ লাখ টাকা। আর ৮৭ সালে খেলা আবাহনীর জার্সিটি বিক্রি করেছেন ২ লাখ ১০ হাজার টাকায়। এই সঙ্গে নিলামে সাড়ে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে ২০১৩ সালে নেপাল সাফের ফাইনাল পরিচালনাকারী ফিফার সাবেক রেফারি তৈয়ব হাসান বাবুর জার্সিটি। রেফারির জার্সি কিনেছেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান নাসিম ফারুক খান মিঠু, মুন্নার বাংলাদেশ লাল দলের জার্সিটি কিনেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবাহনীর আকাশী নীল জার্সিটি কিনেছেন এইচএসবিসি ব্যাংকের সিইও মাহবুব উর রহমান। নিলাম হওয়ার কথা ছিল লাল দলের জার্সিটি। সেভাবেই প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু নিলামে অংশ নিয়ে ব্যাংকের ঐ কর্মকর্তা আবাহনীর একটা জার্সি কিনতে চাইলে অনলাইনে থাকা মুন্নার স্ত্রী আবাহনীর ২ নম্বর জার্সিটি বিক্রি করতে রাজি হন। দুই জার্সি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মুন্নার স্ত্রী কল্পনাও করেননি জার্সি কিনতে এভাবে এগিয়ে আসবেন কেউ। ফুটবলের সেই পুরো কোনো খেলোয়াড়কে এবাবে মূল্যায়ন করতে পারে সেটা দেখে বিস্মিত হয়েছেন মুন্নার স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটাররা তো এখনকার খেলোয়াড়। আর মুন্না তো অনেক আগে খেলেছেন। এভাবে আগ্রহ দেখাবে আমিও চিন্তা করিনি।’ বিশেষ করে মাহবুব উর রহমান নাকি কখনো মুন্নার সঙ্গে দেখাও হয়নি। তার জার্সি কেনার আগ্রহ আরো বেশি অবাক হয়েছেন সুরভী মোনেম। ধানমন্ডি রায়েরবাজারে মুন্নার বাসায় আটটি জার্সি এবং এক জোড়া বুট আছে। মুন্নার স্ত্রী বললেন, ‘মুন্না যখন ব্রাদার্সে খেলেছে সেই জার্সিও রেখেছি। আর কোনো জার্সি বিক্রি করব না।’
শনিবার রাতে অনলাইনে দেশীয় প্রতিষ্ঠান অকশন ফর নিলাম জার্সি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেখানে সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম, ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ, আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপু, মুন্নার স্ত্রীও ছিলেন। সেখানে নিলাম কর্তৃপক্ষ দেশের ফুটবলের অতীত বর্তমান নিয়ে আলোচনা করেন। ফুটবলের সোনালি দিনের কথার সঙ্গে মুন্নার খেলোয়াড়ী জীবনের নানা কথা উঠে আসে আসলাম, কায়সারদের কণ্ঠে। আসলাম বলছিলেন, ‘মুন্না মাঠে যেমন সিরিয়াস ছিলেন, অনুশীলনেও ছাড় দিতেন না কখনো।’