রোকসানা সুইটি
অনেক স্বপ্ন মনের মাঝে রেখে তা অপূর্ণতার বেড়া জালে আটকে থেকে কখনো বা সেই স্বপ্নটা অপূর্ণই থেকে যায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। পূর্ণতা পায় না। বৃত্তের মধ্যেই যেন আবদ্ধ প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবার। স্বপ্নই যাদের একমাত্র পুঁজি। হয়তো অন্ধকার কেটে যাবে, ফিরবে সচ্ছলতা’.... এমন আশায় বুক বেঁধে রোজ প্রহর গোনে মধ্যবিত্ত সমাজ। পেটে ক্ষুধা নিয়েও তাদের হাসতে হয়। বলতে হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি।’ আসলেই কি দিন ভালো কাটে? এই রহস্য ভেদ কেউ করে না, হয়তো করে লাভও নেই তাই !
নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে অগ্রাধিকারে বাদ পড়ে অনেক কিছুই। দুই হাতে বাজারের ব্যাগ, হাতে দাগ পড়ে যায়....তবুও রিকশায় ওঠে না মধ্যবিত্ত বাবা। দুটো পয়সা বাঁচলে হয়তো আরেকটা প্রয়োজন মেটানো যাবে মনের মধ্যে এটাই কাজ করে! অধিকাংশ বাবা-মা নিজের চিকিত্সা করতে গড়িমসি করেন। কারণ, তার সন্তান যেন চিকিত্সাহীন না থাকে। তবুও যেন নিস্তার নেই। মাসিক বাজেটে ঘাটতি হয়....শখের জিনিসে আর শখ থাকে না! সেখানে স্থান পায় অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটা। শীত এলে প্রার্থনা, ‘আল্লাহ অসুখ দিও না।’ গরমে বাড়তি বিদ্যুত্ খরচ নিয়ে টেনশন।
এভাবেই তো চলে আসছে....হয়তো চলতেই থাকবে।
আত্মসম্মানবোধ মধ্যবিত্তের এক মহাব্যাধি। মুখ ফুটে বলার সাধ্য নেই। ছেলেদের কমে যায় বন্ধুর তালিকা। উত্সব অনুষ্ঠানে তথাকথিত উপহার দিতে না পেরে যাওয়া হয় না। সমাজের কষাঘাতে একদিন হয়ে ওঠে ‘অসামাজিক’ নামে । তবু এই মধ্যবিত্তই নাকি ধরে রাখে সামাজিক ভারসাম্য। হবে হয়তো! এরা জীবনকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারে। এদের দুঃখ থাকলেও দেখাতে নেই। কেবল হাসতে হবে....নিদারুণ হাসি! কতটা কষ্ট বুকে ধারণ করে মধ্যবিত্ত পরিবার তা কেবল যারা এই অবস্থায় আছে তারাই জানবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলতে পারি যে যারা নিম্নবিত্ত তারা হাত পেতে চাইতে পারে কিন্তু মধ্যবিত্ত তাও পারে না। নিজেদের আত্মসম্মান বোধ তাদের বাধা দেয়। অদৃশ্য শক্তি টেনে পেছনে নিয়ে আসে। তাদের প্রতিনিয়ত অভিনয় করতে হয় ভালো থাকার। তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার অতীত আছে, আছে বিষাক্ত বর্তমান আর আছে অন্ধকারে আবদ্ধ একটি ভবিষ্যত্।
কখনো বা হতাশ হয়ে যায় আবার নিজেরাই নিজেদের বুঝিয়ে নেয়। বাঁচতে হবে বাঁচাতে হবে এই একটি কথায়।
কিছু মধ্যবিত্ত পরিবার এমনভাবে চলে তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই এই হাসি মুখের ভেতরটাতে কতটা যন্ত্রণা মিশ্রিত বোবা কান্না কেঁদে যায়। বুকের ভেতরটা কতটা হাহাকারে জর্জরিত তা অনেকের অজানাই থেকে যায়।
n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী, নোয়াখালী
সরকারি মহিলা কলেজ