এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ৮৮৭, মৃত্যু ১৪ জনের

দেশে এক দিনে রেকর্ড ৮৮৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ১৪ জন। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২২৮ জন হলো। সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৬ জন, এ নিয়ে মোট ২ হাজার ৬৫০ জন সুস্থ হলেন।

নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল রবিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে দুপুরে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালটি করোনা চিকিত্সার জন্য উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমিয়ে আনতে এবং রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় আরো ১৬টি ল্যাব ও ৪০টি বুথ স্থাপন করা হবে। এছাড়া সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি শুরু হবে। বসুন্ধরার কোভিড হাসপাতালটি    আগামী সপ্তাহে চালু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলো যাতে রোগীদের কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট দেয় সেই ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হলি ফ্যামিলির চিকিত্সকরা সরকারি চিকিত্সকদের মতোই প্রণোদনা সুবিধা পাবেন।’

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও চার জন নারী। নারীদের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, এক জনের ছিল ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে; আর ৬১-৭০ বছর বয়সি ছিলেন দুই জন। আর পুরুষদের মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে তিন জন এবং এক জনের বয়স ছিল ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে। সারাদেশে মোট ৩৬টি ল্যাবে গত এক দিনে ৫ হাজার ৭৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে বুলেটিনে জানানো হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরো ৮৮৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ হাজার ৪৬৫টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬৩৬ জন। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং শনাক্ত  রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

গতকালের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৬৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ২ হাজার ১১৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭১ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ১১৪ জন। করোনা চিকিত্সার জন্য সারাদেশে (ঢাকা শহরের বাইরে) আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮ হাজার ৬৩৪টি। শনিবারের তুলনায় বেড়েছে ৪০?টি শয্যা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ৯০০টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৭৩৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা ৩২৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট ১০২টি। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমেটরিতে ২০০ আইসোলেশন শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২১৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৬২৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭৯ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২০১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৬ হাজার এবং ৪২২ জন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন গোটা বিশ্বই করোনা ভাইরাসের কবলে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ছুটি। বন্ধ বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। যদিও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গতকাল থেকে শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল।