মার্কিন গবেষকদের তথ্য বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে কমবে করোনার প্রকোপ

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মাঝেই মাঝেই ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টির সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক কী রয়েছে? অনেক গবেষক বলছেন, ভারি বৃষ্টিপাত করোনার প্রকোপ কমায়। এছাড়া হাঁচি-কাশি ও থুথুর মাধ্যমে যেসব ভাইরাস মাটিতে পড়ে, সেসব ধুয়ে নিয়ে যায়। আর যেহেতু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এই ভাইরাস কম ছড়ায়, তাই বৃষ্টিতে সংক্রমণের হার একটু কম হতে পারে। শুষ্ক আবহাওয়ায় কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বৃষ্টি হলে সংক্রমণের হার আদৌ কমবে কী-না, তাই নিয়ে পর্যালোচনায় ব্যস্ত বিজ্ঞানীরা। চূড়ান্ত আর্দ্রতা মাপা হয় প্রতি বর্গ মিটারে বাতাসে উপস্থিত জলকণার পরিমাণ বিচার করে। দেখা গিয়েছে, ৯০ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গিয়েছে সেই সব অঞ্চল থেকে, যেখানে তাপমাত্রা ৩ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং চূড়ান্ত আর্দ্রতার পরিমাণ প্রতি কিউবিক মিটারে ৪ থেকে ৯ গ্রাম।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা জানতে পেরেছেন, সংক্রমণের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে তাপমাত্রা এবং চূড়ান্ত আর্দ্রতার।          এ গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯’ সংক্রমণের সাম্প্রতিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি, গ্রীষ্মপ্রধান দেশে সংক্রমণের হার কম থাকার অন্যতম কারণ উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকা। এই আবহাওয়ায় ভাইরাস সংক্রমণের হার শ্লথ হতে দেখা গিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিত্সক ডা. এবি এম আব্দুল্লাহ বলেন, মুষলধারে বৃষ্টিপাতে করোনার প্রকোপ কমে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ভাইরাস ভারী, কেউ কাশি-হাঁচি দিলে সেটা ঘরের মেঝে, রাস্তায় পড়ে। ভারী বৃষ্টি হলে সেগুলো ভেসে যাবে। তাছাড়া বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকলেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ কম হতে দেখা যাচ্ছে। এখন বৈশাখে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। এতে করোনা সংক্রমণের প্রভাব কমবে বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে ডেঙ্গুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর মতো ভাইরাসগুলো বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে একটু কম ছড়ায়, আর বৃষ্টি হলে যেহেতু আর্দ্রতা বাড়ে তাই সংক্রমণের পরিমাণ একটু কম হতে পারে।

এদিকে, ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনার ইঞ্জিনিয়ার্স’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘর বা অফিসের তাপমাত্রা যেন ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তার চেয়ে কম বা বেশি তাপমাত্রা না রাখাই শ্রেয় বলে মত তাদের। এও বলা হয়েছে, এসি চালানোর সময় দেখতে হবে আপেক্ষিক আর্দ্রতা যেন থাকে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। শুকনো খটখটে আবহাওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে কিছুতেই ৪০ শতাংশের নিচে নামতে দেওয়া যাবে না। আর্দ্রতা তার নিচে নেমে গেলে ঘরে জল-ভর্তি একটা পাত্র রাখতে হবে। যাতে জল বাষ্পীভূত হয়ে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়াতে পারে। এ ছাড়াও, ঘরে পাখা চালানোর সময় জানালা একটু খুলে রাখতে বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, শুষ্ক আবহাওয়ায় কোভিড ১৯ ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে।