বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ঘোষণা করা হয় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা। তবে প্রশাসনের নজরদারিতে খুব দ্রুতই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফল হয় এই উপজেলাটি।
করোনাকালে মিল-কারখানা বন্ধ থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ। এ সমস্ত মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহসেন উদ্দিন সোহেল বেপারী।
ইতিমধ্যে চীফ হুইপের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, ইফতার সামগ্রী ও আর্থিক অনুদানসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ সামগ্রী মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, পেয়াজ, আলু, ছোলা, ওষুধসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার। এছাড়াও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মন্দিরের পুরোহিত, গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের বন্ধ থাকা লঞ্চ-স্পিডবোটের প্রায় ২০০ চালক ও শ্রমিকের মাঝে খাবার সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ: আসাদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান (আতাহার), কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহসেন উদ্দিন সোহেল বেপারী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা, সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান খানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাটির মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকেরা জানান, আমরা লজ্জার কারণে নাম ঠিকানা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী নিতে পারি না। এমন অবস্থায় আমাদের মানবতার ফেরিওয়ালা চেয়ারম্যান সোহেল বেপারী নিজে আমাদের বাড়িতে এসে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী দিয়ে গেছেন।
একাধিক অটোচালক ও ভ্যানচালক স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দেওয়া নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, ইফতার সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন বলে আজও আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোহসেন উদ্দিন সোহেল বেপারী বলেন, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সরকারি এবং আমার নিজস্ব তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ৪১’শ পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।
আমি ২৪ ঘণ্টা ইউনিয়নের সবখানে মনিটরিং করি, কোন মানুষ বিপদে আছে কিনা। আমি তাদের সচেতনতা তৈরি লক্ষ্যে প্রচারণাসহ হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করি। পরবর্তীতে অসহায় হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার নিজস্ব তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২০০০ হাজার খাদ্য সামগ্রী, ৫০০ ইফতারি প্যাকেট, ৫০০ শিশু খাদ্য এবং ইমামদের মাঝে নগদ ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকা অসহায় জনগণের মধ্যে বিতরণ করেছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার ঈমানী দায়িত্ব সকল বিপদে আপদে জনগণের পাশে থাকা।
শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আ. লতিফ মোল্লা বলেন, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের পক্ষ থেকে আমরা শুরু থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। যতদিন এই দুর্যোগ থাকবে ততদিন ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ইত্তেফাক/এসআই