করোনার টিকা যদি আদৌ না আসে!

সমগ্র বিশ্ব চাতক পাখির মতো তাকাইয়া রহিয়াছে একটি কার্যকর টিকার দিকে, যাহার মাধ্যমে মুক্তি মিলিতে পারে করোনা ভাইরাস হইতে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিশ্বে ৪২ লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হইয়াছে। মারা গিয়াছে ২ লক্ষ ৮৪ হাজারের অধিক মানুষ। বাংলাদেশে নূতন করিয়া ১ হাজার ৩৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হইয়াছে, যাহা দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের রেকর্ড। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াইল ১৫ হাজার ৬৯১ জনে। অনেকেই মনে করেন, প্রকৃত চিত্র আরো খারাপ। তাহা শুধু বাংলাদেশেই নহে, সমগ্র বিশ্বেরই। সুতরাং ভরসা ঐ প্রতিষেধক আবিষ্কার। বিশ্বের নানান দেশ ও সংস্থা নিজেদের মতো করিয়া কোভিড-১৯-এর টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করিতেছে বটে। গবেষণাগারে পরীক্ষা এমনকি মানবদেহে পরীক্ষা পর্যন্ত শুরু করিয়াছে কোনো কোনো দেশ। অনেকেই মনে করিতেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই অবরুদ্ধ বিশ্ব একটি কার্যকরী টিকা পাইয়া যাইবে। কিন্তু অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করিতেছেন, টিকা পাইতে এখনো বহু যোজন পথ বাকি রহিয়াছে।

নিরুপায় হইয়া করোনা ভাইরাসের টিকা, আরো উন্নত চিকিত্সা ও পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কারের লক্ষ্যে বিশাল অঙ্কের অর্থ অঙ্গীকার করিয়াছে বিশ্বের অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান। ইইউর নেতৃত্বে কিছুদিন পূর্বে এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনও হইয়া গিয়াছে। বিশ্বের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ দেশ একযোগে করোনা ভাইরাস মোকাবিলার অঙ্গীকার করিলেও সেই সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অনুপস্থিত ছিল। আবার চীন অংশ লইলেও কোনো শীর্ষ নেতার বদলে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বক্তব্য রাখিয়াছে মাত্র। এইদিকে সমগ্র বিশ্বই হাঁপাইয়া উঠিয়াছে লকডাউনের জাঁতাকলে পড়িয়া। আসন্ন ঈদের কারণে বাংলাদেশেও লকডাউন বহুলাংশে শিথিল করা হইয়াছে। সড়কে যান চলাচল বৃদ্ধি পাইয়াছে তাত্পর্যপূর্ণ মাত্রায়। ঢাকামুখী মানুষের স্রোতও অব্যাহত রহিয়াছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউরোপসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে লকডাউন ও কড়াকড়ি শিথিল করা হইয়াছে। আরো বেশি মানুষ কাজের জায়গা বা কিনাকাটার জন্য বাহির হইবার ফলে নূতন সংক্রমণের হার বৃদ্ধিরও আশঙ্কা করা হইতেছে, যাহার প্রতিফলন দেখা যাইবে আরো এক দুই সপ্তাহ পর হইতে। এমনকি প্রথমবারের তুলনায় করোনার আরো মারাত্মক এক ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ আসিতে পারে সমগ্র বিশ্বে। সুতরাং ভরসার কেন্দ্র্রস্থলে রহিয়াছে ঐ টিকা আবিষ্কারই। এই মুহূর্তে করোনার মোট ১০২টি টিকা লইয়া গবেষণা চলিতেছে। তাহার মধ্যে আটটি টিকা মানবশরীরে প্রয়োগ করিয়া দেখার কাজও শুরু হইয়াছে।

ইতিপূর্বে একাধিক বার করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন অথবা প্রতিষেধক তৈরির খবর সামনে আসিয়াছে। তবে একটি বড়ো আশঙ্কার কথা শুনাইয়াছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাহারা বলিয়াছে, করোনার টিকা কোনো দিনই আবিষ্কার হইতে নাও পারে। এমনকি যদি কোনো টিকা আবিষ্কার হয়ও, উহা বাজারে আসিবার পূর্বে সকল পরীক্ষায় পাশ করিবে কি না, তাহার কোনো গ্যারান্টি নাই। এই অবস্থায় করোনার সহিত সহাবস্থানই হয়তো আমাদের ভবিতব্য হইয়া উঠিতে পারে। ইহার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকিতে হইবে সাধ্যমতো।