দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া ঘাটে মানুষের ঢল

করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে কর্মস্থলে ছুটে আসছে মানুষ

করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের কর্মস্থলগুলোতে ছুটে আসছে মানুষ। জীবিকার তাগিদের কাছে করোনা আতঙ্কও হার মেনে গেছে। দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া ঘাটে এখন শুধুই কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে লকডাউন। সরকারি ছুটির পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। কিন্তু উলটো চিত্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালুর ঘোষণায় কাজে যোগ দিতে কয়েকদিন যাবত্ কর্মমুখী মানুষের ঢল নেমেছে এ ঘাটে। করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে সবাই ছুটছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও ফিরছে অসংখ্য যাত্রী। করোনার দুর্যোগকালীন যাওয়া-আসার এই প্রতিযোগিতায় সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা বরং গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠতেই ব্যস্ত সবাই।

যাত্রীরা বলেন, আজ প্রায় দুই মাস হলো কাজ বন্ধ। সামনে ঈদ। কাজে না গেলে বেতন-বোনাস কিছুই পাব না। তাই বাধ্য হয়েই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কাজে যাচ্ছি।

জানা যায়, বিআইডব্লিউটিসিতে কর্মরত পাঁচ কর্মী ও তাদের মেসের এক রাধুনীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সংস্থাটিতে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল সচল রেখেছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, সরকারি আদেশে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের জন্য ১০টির মধ্যে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন যাবত্ মানুষের চাপে আমরা ঠিকমত পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না।                প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে এদের পারাপার ঠেকানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল যেন থামছে না। ফেরিতে গাদাগাদি করে করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে এসব যাত্রীরা ফিরছে কর্মস্থলে। গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরিতে করে আসছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ফেরিগুলোতে গাড়ি রয়েছে মাত্র গুটি কয়েক। ঘাটে এসে ফেরি থেকে নামতে ধাক্কা-ধাক্কি করে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে নামছে যাত্রীরা। তাদের মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো ভয়-ভীতিই দেখা যায়নি। ফেরি থেকে নেমেই কার আগে কে যানবাহনে উঠবে এনিয়ে ছোটাছুটি করছিল লোকজন। বাস না থাকায় অটোরিকশা, টেম্পো, ইয়েলোক্যাব, নসিমন, করিমন, উবারের অফলাইনের মোটর সাইকেল ও গাড়িতে করে ভেঙে ভেঙে তারা গন্তব্যে ফিরছে। এতে তাদের কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১২টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে।