করোনা মোকাবিলায় ব্যতিক্রম সোনারগাঁও

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজ উদ্যোগে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। আক্রান্তদের চিকিত্সা, লকডাউনে থাকা পরিবারসমূহের খাবার সরবরাহ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন নিয়মিত। লোকলজ্জায় যারা প্রকাশ্যে ত্রাণ চাইতে পারছেন না, তাদের ঘরেও গোপনে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কৃষকের ধান কেটে দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছেন।

এমপি খোকা ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সোনারগাঁয়ে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত দু’জন মারা গেছেন। বাসা থেকে মৃতদেহ নামানো থেকে শুরু করে তাদের দাফনের যাবতীয় কাজ করেছে আমার আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক টিম। গত বুধবার পর্যন্ত মোট ১৬১টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর রাখাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। লজ্জায় যারা ত্রাণ চাইতে পারছেন না, তবে অর্থ ও খাবারের কষ্টে রয়েছেন—পরিচয় গোপন রেখে তাদের বাসায় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে পৃথক একটি টিম করে দিয়েছি। এজন্য একটি হটলাইন নম্বরও চালু করেছি। প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুইশ কল আসছে হটলাইনে।

তিনি জানান, ওয়ার্ড ভিত্তিক পৃথক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন শ্রমিক, সিএনজি চালক, রিকশা চালক, ফেরিওয়ালা, জেলে ও বেদে সম্প্রদায় এবং হিজড়াসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনের মধ্যে নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে পৃথক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। যখন যেখানে যা প্রয়োজন তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পুরো উপজেলায় গোল চি???হ্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমপি খোকা বলেন, ফুটপাতের চা দোকানগুলো আপাতত তুলে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে চা দোকানদারদের বলেছি, ‘এই মহামারি মোকাবিলায় আপনারও দায়িত্ব রয়েছে। এখন দোকান তুলে নিন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমি আবার আপনার দোকান সুন্দর করে সাজিয়ে দেব। সবাই হাসিমুখে নিজ উদ্যোগে দোকান তুলে নিয়েছেন।’

জাতীয় পার্টি (জাপা) দলীয় এই সংসদ সদস্য জানান, এলাকায় এ পর্যন্ত ১ লাখ মাস্ক, ৩০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১ কেজি করে ২০ হাজার ব্লিচিং পাউডারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পিপিই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে চারটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দিয়েছি। খবর পাওয়ামাত্র বিনা অর্থে রোগীদের হাসপাতালে আনা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার কাজ করছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। তিনি জানান, স্ত্রীর দেওয়া টাকায় হাসপাতালে চিকিত্সক ও রোগীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছেন।

এখানেই থেমে থাকেননি এমপি খোকা। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে সোনারগাঁওয়ে। শ্রমিকসংকট কাটিয়ে উঠতে ধান কাটার মেশিন ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ দিয়ে দ্রুত সোনারগাঁওয়ের ৪৬৬টি গ্রামের অসহায় কৃষকদের জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন খোকা।

এ ব্যাপারে খোকা জানান, আমি ফটোসেশনে বিশ্বাসী নই। নিজ উদ্যোগে আমি তিনটি ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ মেশিন ভাড়া করেছি। মেশিনগুলো নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে তুলে দিচ্ছে। এজন্য কৃষকের এক টাকাও খরচ হবে না।