স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন এক স্ত্রী। স্বামী রেজাউল করিম প্লাবন দৈনিক যুগান্তরের রিপোর্টার। আর স্ত্রী সাজিদা ইসলাম পারুলও দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় এই মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, মামলার পর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলায় স্ত্রী পারুল অভিযোগ করেন, ‘প্রেমের সম্পর্ক থেকে গত ২ এপ্রিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্লাবনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর পিত্রালয় কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে প্লাবন তাদের বাড়িতে যেতে হলে তাকে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার কথা বলে। আর না হলে অন্তত ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায়। এক পর্যায়ে যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় প্লাবন আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। আমার গর্ভে তার সন্তান রয়েছে বলার পর সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বেশি করে মারধর করে এবং পরে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এরপর গত ৫ মে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শ্বশুর ও শাশুড়িকে সালাম করতে গেলে তারা দুই জন পা সরিয়ে নেন এবং শাশুড়ি জানায়, তার ছেলে যা (যৌতুক) চেয়েছে তা দিলে আমাকে মেনে নেবেন। এ ধরনের যৌতুকের প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও শাশুড়ি এবং তার দুই ছেলে আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। এ ঘটনার পর চিলমারী থানায় গেলে পুলিশ ঢাকায় মামলা করার পরামর্শ দেয় এবং ঢাকায় ফিরে আমি অসুস্থ হয়ে যাই এবং গর্ভের ভ্রূণটি নষ্ট হয়ে যায়।’ পারুলের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে স্বামীর উপর্যুপরি নির্যাতন এবং মানসিক অশান্তির কারণেই গর্ভের সন্তানটি নষ্ট হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্লাবনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক পারুল আক্তারকে বিয়ে এবং ‘অঙ্গীকার না রাখায়’ ৩০ এপ্রিল তাকে বিয়ে বিচ্ছেদের চিঠি পাঠানোর কথা লিখেছেন। তবে পারুল আইনগতভাবে এখনো বিচ্ছেদের কোনো নোটিশ পাননি বলে জানান। তবে হোয়াটস অ্যাপে তাকে একটি ‘ডিভোর্স লেটার’ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এটার কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।