করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে বিশ্বের কিছু দেশ। লকডাউন শিথিল করায় বাইরে বের হতে শুরু করেছে মানুষ। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই যেন বদলে গেছে পৃথিবীর অনেক নিয়ম। আগের মতো মানুষের মধ্যে নেই স্বতঃস্ফূর্ততা। এখন মানুষ মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার বদলে বরং দূরে থাকার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইউরোপ থেকে এশিয়া, জার্মানি থেকে গ্রিস কিংবা কানাডা থেকে স্পেন—সব জায়গায় মানুষ মানুষকে এড়িয়ে চলছে।
অনেক দেশ তাদের লকডাউন আগের চেয়ে শিথিল করেছে। কোনো কোনো দেশ তাদের কোনো নির্দিষ্ট শহরের লকডাউন শিথিল করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আবার কোনো কোনো দেশ তাদের কিছু কিছু খাতকে লকডাউনের আওতামুক্ত রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগে শপিংমল কিংবা কোথাও যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা মাপার বিষয়টি অনেকের কাছেই কাল্পনিক মনে হতো।
কিন্তু এখন বেশির ভাগ দেশেই যেখানে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে, সেখানেও শপিংমল কিংবা রেস্তোরাঁর মতো জায়গায় আগত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এমনকি এসব শপিংমলে লোকজনের প্রবেশের ক্ষেত্রে কতজন ঢুকছে, তা-ও বিশেষভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো দোকানের সামনে যাতে মানুষ নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে পারে, তার জন্য দূরত্ব মেনে জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ নির্দিষ্ট করা ঐ সব জায়গায় দাঁড়িয়ে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মসজিদে লোকজন নামাজ আদায় করছে কিছু বিধিনিষেধ মেনে। এক কাতার বাদ দিয়ে নামাজে দাঁড়াচ্ছেন মুসল্লিরা। পাশাপাশি দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও মানুষ কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছেন। এছাড়া মসজিদে অজু করার বদলে বাড়ি থেকে অজু করে যেতেও বলা হয়েছে অনেক জায়গায়। এছাড়া মসজিদে প্রবেশের আগে হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং নামাজ শেষে মসজিদ জীবাণুমুক্ত করার বিধান চালু হয়েছে।
এমনকি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও মানুষ চেষ্টা করছে একে অপর থেকে দূরে থেকে তা করতে। এই যেমন কানাডার একটি হকি ক্লাবে কিছু ছেলেকে বাইরে দেখা গেল সামাজিক দূরত্ব মেনে খেলার সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে। ১৩ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল দেশটির সব ধরনের খেলাধুলা। গত ৬ মে থেকে ছেলেমেয়েরা মাঠে যেতে শুরু করেছে খেলাধুলা করতে। কিন্তু খেলার মাঠে গিয়েও তাদের মধ্যে ছিল করোনা আতঙ্ক; তাই প্রত্যেকে চেষ্টা করেছে একে অপর থেকে দূরে থাকতে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতি আগের মতো হবে, সেটি এখন শুধু সময়ই বলতে পারে। স্পেন, জার্মানি, গ্রিস, ফ্রান্স যেখানেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে, সেখানে মানুষ কেবল বিশেষ প্রয়োজনেই বের হচ্ছে। এসব দেশের অনেক জায়গায় দেখা গেছে সেলুনে গেলেও কিছু সিট ফাঁকা রেখে বসার নিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া শপিংমলের কাপড় বদলানোর কক্ষগুলোর পাশাপাশি কক্ষগুলো যাতে ব্যবহার করতে না হয়, তার জন্য কিছু কিছু রুম বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রত্যেকে মুখে মাস্ক পরছেন। লকডাউন শিথিলের পরও মানুষ তা মেনে চলছেন। প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে দূরত্ব মেনে চলছেন। কেউ কারো সঙ্গে হাত মেলাতে যাচ্ছেন না; কোলাকুলি কিংবা কাউকে জড়িয়ে ধরছেন না কেউ। কয়েক মাস আগের পৃথিবীর সঙ্গে যেন মিল নেই এখনকার এই পৃথিবীর! -সি নেট ডট কম
ইত্তেফাক/এমআর