স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রায় দুই মাসের গৃহবন্দিত্ব থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোস। সোমবার রাতে কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশ ছেড়েছেন পর্তুগীজ এই কোচ।
প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী সর্বশেষ খেলেছিল ১৬ মার্চ। এরপর থেকেই করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে আছে লিগ। ফলে মাঠে নামা কিংবা অনুশীলন, সবই হয়ে আছে বন্ধ। তবে এই অখণ্ড অবসরটা ঠিক মনমতো কাটাতে পারেননি লেমোস। লকডাউনের কারণে নিজে আটকে আছেন বাংলাদেশে, আর স্ত্রী-সন্তান যে পড়ে আছে সুদূর দক্ষিণ কোরিয়ায়! অবশ্য শেষ দুই মাসে বিদেশি খেলোয়াড়রা অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রিমিয়ার লিগের সব জাপানি খেলোয়াড় একযোগে দেশে ফিরে গেছেন। গেল সপ্তাহে লেমোসেরই শিষ্য আলায়েলদিন নাসর ঈসাও দেশ ছেড়েছিলেন। কেবল লেমোসের বেলাতেই দেশত্যাগের ভাগ্যটা সুপ্রসন্ন ছিল না।
প্রায় দুই মাস হোটেলের একমাত্র অতিথি হয়ে থাকার পর অবশেষে মুক্তি মিললো স্ত্রী মি হুয়ে জিনের কল্যাণে। দেশের কোরিয়ান কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনিই লেমোসের বাংলাদেশ ছাড়ার উপায় তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর পুরো ব্যাপারটা লেমোসের কাছে এসেছে চমক হিসেবেই।
লেমোসের ভাষ্য, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, লিগটা সহসাই শুরু হচ্ছে না। তাই এখন স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়াটাই শ্রেয়। মূলত আমার স্ত্রীই এখানকার কোরিয়ান কমিউনিটির সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমি জানতে পেরেছি আচমকাই।’ এরই ফলে সোমবার রাতে কোরিয়ায় থাকা স্ত্রী আর নয় মাস বয়সি কন্যা গ্যাবি লেমোসের কাছে ছয় মাস পর ছুটে যাওয়ার সুযোগ মেলে আবাহনী কোচের। তবে হোটেলে দুই মাস থাকার কারণে খুব পরিচিত হয়ে পড়া পরিবেশকে বিদায় জানাতেও কিছুটা কষ্ট হয়েছে তার। লেমোস বলেন, ‘হোটেলে যে কয়জন কর্মচারী ছিল তাদের সবাইকে বিদায় বলতে একটু খারাপই লেগেছে। তবে এটা হওয়ারই ছিল, যেতে তো হতোই!’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হচ্ছে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা আর সুস্থ থাকা। সবকিছু যখন স্বাভাবিক হয়ে আসবে, ফুটবল তখন আবার শুরু হতে পারবে। বাংলাদেশিদের জন্যে বলবো, নিজেদের যত্ন নিন এবং নিরাপদে থাকুন।’
লেমোসের আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের কোচ শন লেন, সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোচ দ্রাগো মামিচ, ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ রেজা পার্কাস নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। তবে বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন এখনো আছেন দেশেই।