রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট কিস্তির সুদ মওকুফ করা হোক

আমাদের সিটি ব্যাংকে একটি ঋণ আছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়েছে, আগামী জুলাই পর্যন্ত ঋণের মাসিক কিস্তি দিতে হবে না। কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ঋণের সুদ নিয়ে চিন্তা না করতে। ব্যবসায়ীদের ঋণের সুদ যেন স্থগিত থাকে এবং পরবর্তী সময়ে কতটুকু মওকুফ করা যায় তা বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিকে সরকার করোনা পরিস্থিতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছেন। এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে ঋণ হিসেবে, যার অর্ধেক সুদ টানবে সরকার। কৃষিঋণেও সরকার সুদ ভর্তুকি দিচ্ছে। গত ১ এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন কৃষকরা। এছাড়া চারদিকে শুধু শুনি মওকুফের কথা। মানবিকতার পরিচয় দিয়ে অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার বাড়িভাড়া পর্যন্ত মওকুফ করে দিচ্ছেন। অথচ রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের চার-পাঁচ হাজার ফ্ল্যাট মালিক কিস্তির সুদ নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় আছেন, সে ব্যাপারে তাঁরা আবেদন-নিবেদন জানানোর পরও কোনো আশ্বাস পাচ্ছেন না।

রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প বাংলাদেশের বৃহত্তম একটি আবাসিক প্রকল্প। এখানকার ফ্ল্যাট মালিকরা খুব কষ্টে আছেন। চার কিস্তি এবং পার্কিং ও ইউটিলিটির টাকা পরিশোধ করে অনেকে ফ্ল্যাটে উঠেছেন। কিন্তু তাঁরা এখন পরবর্তী কিস্তিগুলো পরিশোধের ব্যাপারে আতঙ্কে আছেন। কিস্তির সুদের মিটার বাড়ছেই। যাঁরা এখনো পঞ্চম কিস্তি দেননি তাঁদের দৈনিক ৭০১ টাকা করে সুদ গুনতে হচ্ছে। এতে মাসে পড়ছে ২১ হাজার টাকা। অথচ ১০ হাজার টাকা দিয়েও এখানকার ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। শত শত ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে।   দিন দিন এই সুদ বাড়ার কারণে অনেকে ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। কিন্তু এখানেও বিপদ। লাভজনক মূল্যে কেউ ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারছেন না। লোকসানের কারণে অনেকের কাছে রাজউকের ফ্ল্যাট দেখা দিয়েছে গলার কাঁটা হিসেবে।

অবশ্য রাজউক কিস্তির সুদকে সুদ বলতে নারাজ। তাঁদের ভাষায় এর নাম বিলম্ব ফি। নাম যাই হোক, তা যন্ত্রণাদায়ক। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ২০১৬ সালে নির্ধারিত সময়ে রাজউক ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে না পারলেও তাঁরা বিলম্ব ফি ঠিকই আদায় করছেন, অথচ ফ্ল্যাট মালিকরা ক্ষতিপূরণ বা বিলম্ব সুবিধা পাচ্ছেন না। রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ফ্ল্যাট মালিকদের বলেছিলেন আবেদন করতে। সেই অনুযায়ী রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক-এ মালিক কল্যাণ সমিতির (সাবেক রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে বসবাসরত ফ্ল্যাট মালিক সমিতি) উদ্যোগে শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সুদ মওকুফের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমাদের বিনীত আবেদন, প্রকল্পের মেয়াদ পর্যন্ত অন্তত সুদ মওকুফ করা হোক। যেহেতু প্রকল্পের অনেক কাজ এখনো বাকি এবং এখনো এই এলাকা বসবাসের উপযোগী হয়নি, রাস্তাঘাটসহ রয়েছে হাজারো সমস্যা, যে কারণে এখনো সাত-আট ভাগ ফ্ল্যাট মালিকও ফ্ল্যাটে ওঠেননি। তাই আমাদের সুদ মওকুফের এই দাবি অন্যায্য নয়। এখানকার অধিকাংশ অধিবাসী সিনিয়র সিটিজেন বা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ। তাঁদের এখন আয়রোজগার তেমন নেই বললেই চলে। এই দুর্যোগে সবাই যদি সুদ মওকুফ বা সুদ ভর্তুকির সুবিধা পান, তাহলে এই প্রজেক্টের বাসিন্দাদের কী অপরাধ? তাঁরা কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেগা আবাসিক প্রকল্পে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগ করে ভুল করেছেন?

এই করোনা মহামারির সময় আমরা সুদ বা বিলম্ব ফি ছাড়াই পরবর্তী কিস্তিগুলো জমা দেওয়ার সুযোগ চাই। প্রকল্পের মেয়াদ পর্যন্ত তা মওকুফ করা হোক। এছাড়া অবশিষ্ট চার কিস্তি আট কিস্তিতে প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রী এবং রাজউক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নার্গিস ইসলাম

কুশিয়ারা ভবন, ব্লক-এ, সেক্টর-১৮, রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট, উত্তরা, ঢাকা