কন্টেইনারের ওপর চার গুণ চার্জ আরোপ করছে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারের ওপর চার গুণ চার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা কনটেইনারের ডেলিভারি সন্তোষজনক না হলে ১৭ মে থেকে অতিরিক্ত চার্জ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শেষ পর্যন্ত স্টোর রেন্ট ( ভাড়া) মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে সব আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ভাড়া মওকুফ করায় বন্দরের প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে যেখানে শুধু ৩৮টি আমদানি পণ্য বেসরকারি ডিপোতে রাখা যেত, বর্তমানে সব পণ্য রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে গার্মেন্টসসহ বেশ কিছু শিল্পকারখানা ও মার্কেট  খুলে দেওয়া হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও আমদানিকারকগণ বন্দরের জেটি থেকে তাদের পণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার ধীরগতির কারণে বন্দরে কনটেইনার জট আশানুরূপ কমছে না।

গতকালও বন্দরে কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৫ হাজার। বহির্নোঙরে থাকা ১৯টি জাহাজ বন্দরের জেটিতে আসার অপেক্ষায় ছিল। এগুলো অপেক্ষায় রয়েছে ৮-১০ দিন ধরে। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সুবিধা দেওয়ার পরও পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি না হলে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ হবে। এ ক্ষেত্রে ১৬ মের পর প্রতিদিনের জন্য প্রতি কনটেইনার বাবদ ২৪ ডলার চার্জ দিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে কনটেইনার পৌঁছার চার দিন পর থেকে চার্জ আরোপ শুরু হয়। গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার ছুটি ঘোষণার পর দেশের সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বন্দর থেকে কনটেইনার খালাস কমে যায়। আমদানি পণ্য নিয়ে জাহাজ বন্দরে পৌঁছার পরও ডেলিভারি কম হওয়ায় বন্দরে কনটেইনারের জট পড়ে যায়। একসময় এর ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার অতিক্রম করে।