ইউরোপ জুড়ে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা লকডাউন শিথিল হতে শুরু করেছে। দোকান, রেস্তোরাঁ ও স্কুল খুলছে। লোকজন বাসে ট্রেনে চেপে কাজে যেতে শুরু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন শিথিলের বিষয়ে সিনেটকে সতর্ক করছেন হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি। এখনই শিথিল হলে দেশটিতে মৃত্যু ও আক্রান্ত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি জানাচ্ছেন। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বে গতকাল পর্যন্ত ৪২ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত এবং মারা গেছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৫ জন।
যেভাবে লকডাউন শিথিল হচ্ছে ইউরোপে
ব্রিটেন টানা প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা লকডাউন সোমবার থেকে শিথিল শুরু হয়েছে। মানুষজন নিজ পরিবারের বাইরে অন্যের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, তবে বাড়িতে গিয়ে নয়। সেই সাক্ষাত্ হতে হবে বাড়ির বাইরে এবং পরস্পরের মধ্যে দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। শরীরচর্চার জন্য দিনে একবারের বদলে যত খুশি বাইরে যাওয়া যাবে এবং গাড়ি চালিয়ে যতদূর খুশি যাওয়া যাবে। বুধবার থেকে কাজে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যদিও একই সঙ্গে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের প্রাদেশিক সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেয়নি।
জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখসহ জার্মান ফুটবল লীগ বুনদেসলীগার বেশ কয়েকটি ক্লাব তাদের ট্রেনিং শুরু করেছে। ১৬ মে থেকে বুনদেসলীগা শুরু হবে, তবে লীগের বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠে দর্শক থাকবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবধরনের দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লকডাউন শিথিলের মাত্রা ঠিক করার সিদ্ধান্ত দেশের ১৬টি প্রাদেশিক সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অনুমতিপত্র নেওয়ার যে বিধি চালু হয়েছিল তা সোমবার থেকে রদ করা হয়েছে। বেলজিয়ামে এখন কোনো পরিবার চাইলে সর্বোচ্চ চার জন বন্ধু বা স্বজনকে দাওয়াত করতে পারবে। তবে ঐ পরিবারের সদস্যরা এবং ঐ চার অতিথি পরে অন্য কারো বাড়িতে যেতে পারবে না। নেদারল্যান্ডসে লাইব্রেরি, সেলুন, বিউটি পার্লার, ম্যাসাজ পার্লারও সোমবার থেকে খুলেছে। প্রাইমারি স্কুলও খুলেছে আংশিকভাবে। মাধ্যমিক স্কুল খুলবে পহেলা জুন থেকে। অস্ট্রিয়ায় পর্যটন স্থাপনাও খুলেছে। ইতালিয়ানরা এখন আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেও যেতে পারছেন, তবে এক প্রদেশে থেকে অন্য প্রদেশে যাওয়া নিষিদ্ধ। শেষকৃত্যে এখন থেকে ১৫ জন পর্যন্ত অংশ নিতে পারবে। স্পেনের চার কোটি ৭০ লাখ মানুষের অর্ধেকেরও বেশি লোক এখন কঠোর লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
পুতিনের মুখপাত্র আক্রান্ত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এর আগে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তিন মন্ত্রী আক্রান্ত হন। দেশটি এখন আক্রান্তে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থানে (২ লাখ ৩২ হাজার ২৪৩ জন)। এরই মধ্যে কোভিড-১৯ হাসপাতালে আগুন লেগে ৫ রোগী মারা গেছেন। দেশটির সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, সেন্ট পিটার্গবার্গে ভেন্টিলেটরে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগে।
ভারতসহ অন্যান্য দেশের অবস্থা
ভারতে গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬০৪ জন। এর জেরে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ৭৫৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮৭ জনের মৃত্যুতে দেশে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ২৯৩। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই কো-মর্বিডিটি ছিল। ২২ হাজার ৪৫৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় লকডাউন শিথিলের পর রাতের বিনোদন এলাকায় প্রায় ১০০ জন সংক্রমিত হয়েছে। এই ঘটনার পর স্কুল খোলা পিছিয়ে দিয়েছে সরকার। যদিও দেশটিতে প্রচুর পরীক্ষা, সংস্পর্শ নির্ণয় করে সংক্রমণ কমিয়ে আনা হয়েছে।