করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরো বেশি অর্থ সহায়তা চেয়েছে সরকার। সামনে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সুরক্ষাসহ সামগ্রিক ব্যয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে করোনার অভিঘাত। অপরদিকে, অস্বাভাবিক হারে কমেছে রাজস্ব আয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আয় কমে যাবে এমনটি আগেই ধারণা করা হয়েছিল। করোনার অভিঘাত সামাল দিতে আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত নানামুখী প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হবে সেই চিন্তাও সরকারের। তাই আসছে বাজেটে বাড়তি করারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে—এটাই স্বাভাবিক। এমনকি বেসরকারি খাতের দুর্দশার কারণে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কারভার লাঘব করার চিন্তাও রয়েছে। যাতে ভোগ ব্যয় বাড়িয়ে পণ্য বাজার চাঙ্গা রাখা যায়। এমন অবস্থায় বিদেশি অর্থ সহায়তা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প সরকারের সামনে নেই। তাই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট সহায়তা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এরই মধ্যে চিঠি চালাচালি করেছেন। টেলিফোনেও কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। তিনি জানান, গত রবিবার রাতে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। জাইকার কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাতে ১ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট সহায়তা হিসাবে প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাজেট সহায়তা হিসেবে জাইকার অর্থায়ন এবারেই প্রথম। বিদ্যমান অন্যান্য খাতেও জাইকা অর্থ সহায়তা বাড়াবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর আগে এডিবির কাছেও বাজেট সাপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এরই মধ্যে ৬০ কোটি ডলারের সমমান প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। ইতিবাচক সাড়া মিলেছে আরো ১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রাপ্তির। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করতে পারবে সরকার।
প্রসঙ্গত, করোনা, বিশ্বমন্দায় গোটা বিশ্ব অর্থনীতিই এখন ধরাশায়ী। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরই মধ্যে বলেছে, বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমবে। বাংলাদেশেও প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে টেনে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ঘরে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ এখন অর্থমন্ত্রীর সামনে। তবে সব খাতে অর্থায়ন তথা বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে আরো দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে বেশি করে টাকা ঢালতে হবে। সমাজের সব খাতে নগদ অর্থ সরবরাহ বাড়াতে হবে। যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই বাহ্যিক উত্স থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। সামনের বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কৃষি, এসএমই, এমএসএমই এবং বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠান। এমনকি করোনায় বিপর্যস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থসহায়তাও ঘোষণা করেছে সরকার। এতে দরকার হবে সাড়ে ১২০০ কোটি টাকা।
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে এরই মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, রিজার্ভ থেকে সৃষ্ট তহবিলের বাইরে বাজেটের মাধ্যমে অর্থ জোগানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দ্বারস্থ হওয়া। কম সুদে ঋণ নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে সরকার। যদিও চলতি বছরের বাজেটে ব্যাপক কাটছাঁট করতে হয়েছে। বছর শেষে সংশোধিত বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় রয়েছে।