লালমনিরহাটে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পদ্ধতি গ্রহণ ও সর্তক থাকার বিষয়সমূহকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ায় এক কলেজ শিক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আজ বুধবার (১৩ মে) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ওই শিক্ষকের নাম মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার আদর্শ কলেজের রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক। সে রংপুরের পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ি পলাশী গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, গত ১১ মে ওই কলেজ শিক্ষক তার ফেসবুক ওয়ালে ওপেন চ্যালেঞ্জ টু এভরিবডি শিরোনামে কোলাকুলি করা, মোসাফাকরা থেকে দূরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা এ সমস্ত কথা কোরআন, ইসলাম ও ঈমান আমলের ওপর বড় আঘাত হেনেছে। স্যানিটাইজার, মাস্ক ব্যবহার ও বাসায় থাকা প্রভৃতি ভাইরাস প্রতিরোধে ৯৯.৫০% ভুয়া। এ সকল কথা প্রমাণিত করতে পারলে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করার চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। না পারলে তাকে টাকা দিতে হবে ও সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে। উল্লেখ করে তার নাম কলেজের নাম মোবাইল ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে পাবলিশ করেন।
আরো পড়ুন: নলছিটিতে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকাফেরত যুবকের মৃত্যু
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অপরাধে মঙ্গলবার (১২মে) রাতে পাটগ্রাম থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
ইত্তেফাক/এএএম