ক্রিকেটে করোনার হানা

প্রস্তুত আছে ক্রিকেট বোর্ড

সুস্থ হয়ে উঠছেন আশিক

স্পোর্টস রিপোর্টার

লোকেদের কাছে তার পরিচয়—মোহাম্মদ আশরাফুলের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। কিন্তু তিনিও এক সময়ের নামকরা ক্রিকেটার ছিলেন।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক পেসার ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে। গতকাল বিকেলে তিনি নিজে জানিয়েছেন, আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে আশিকই প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। তার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বললেন, তারা ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট সবার পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত আছেন।

সুজন বলছিলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ক্রিকেট পরিবারের সবার পাশে আছি। ক্রিকেটার, কোচ, সাংবাদিক; সবাইকে মিলিয়ে আমাদের ক্রিকেট পরিবার। এর মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে তার পাশে থাকব আমরা। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

সুনির্দিষ্ট করে আশিকুর রহমানের ব্যাপারে বলতে গিয়ে সুজন বলেছেন, ‘সে তো আমাদের কাঠামোর একজন। যদি সে বিসিবির কাঠামোতে না থাকত, তাও আমরা তার পাশে থাকতাম। এখন আমরা আশিকের সব রকমের খোঁজখবর নিচ্ছি। গত দুই দিনই তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে এখন আগের চেয়ে ভালো আছে।’

২০০২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন আশিক। দীর্ঘদেহী এই পেসার ক্যারিয়ারটা লম্বা করতে পারেননি পিঠের ব্যাথায়। অল্প বয়সেই খেলা ছেড়ে কোচিং শুরু করেছেন। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেটার্সের সহকারী কোচ হিসেবে কয়েক বছর ধরে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ নারী দলেও সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় দুই বছর।

আশিক করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে মানুষের ভেতরে কাজ করছিলেন। ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন। এর আগে ডেঙ্গুর সময়ও এসব কাজ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কাজ করতে গিয়েই সংক্রমিত হয়েছেন তিনি।

পাঁচ দিন আগে তার জ্বর আসে। মঙ্গলবার তার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। সেখানে তিনি আক্রান্ত বলে জানা যায়। এরপর শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তাকে ভর্তি করাতে হয় হাসপাতালে। শুরুতে সেখানে ভালো থাকলেও রাতে অক্সিজেন দিতে হয়েছিল।

গতকাল সকাল থেকে ভালো থাকা আশিক বলেছেন, ‘এখন অক্সিজেন ভালো আছে। শ্বাসকষ্টটা কম। তবে কথা বলতে সমস্যা হয়।’

আশিক চান, দ্রুত সুস্থ হয়ে মানুষের মাঝে ফিরতে। তিনি বলছিলেন, ‘আমার দ্রুত সুস্থ হতে হবে। কারণ শুয়ে থাকা নয়, আমি চাই মানুষের মাঝে কাজ করতে। মানুষের সেবা করতে চাই।’

আশিকের বন্ধু আশরাফুল বলেছেন, ‘আশিক ভাই এলাকায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশেই ছিলেন। তাদের সহযোগিতাও করেছেন। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার সময় এলাকার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজও তদারক করেছেন। এসব জনহিতকর কাজ করতে গিয়েই হয়তো তার শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।’