চট্টগ্রামে আইসিইউ স্বল্পতায় জটিল করোনা রোগীরা ঝুঁকিতে

চট্টগ্রামে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। কিন্তু রোগী শনাক্তকরণের সুবিধা বাড়লে মুমূর্ষু রোগীর চিকিত্সার জন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়েনি। সরকারিভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মাত্র ১০টি আইসিইউ সুবিধা ছাড়া এর বাইরে আর কোনো সুবিধা নেই। অথচ চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলায় আক্রান্ত রোগীরা চট্টগ্রামে চিকিত্সা নিতে আসছে। বেসরকারি ১২টি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক চিঠি দিলেও সাড়া মিলেনি। ফলে চট্টগ্রামে জটিল করোনা রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

চট্টগ্রামে ক্রমশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বর্তমানে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। এসব রোগীর আইসিইউসহ চিকিত্সা সুবিধা রয়েছে একমাত্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। এখানে ১০টি আইসিইউ বেড ও ১০০টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। এর বাইরে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে কিছু আইসোলেশন বেড থাকলেও আইসিইউ সুবিধা নেই। ফলে অনেক জটিল রোগী বিআইটিআইডিতে গিয়ে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে ফেরতে যাচ্ছে। এতে পথেই মারা যাচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। চট্টগ্রামে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু সংক্রমণের কারণে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে করোনা রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে না।

গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক চট্টগ্রামে ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল বাছাই করে আইসিইউ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখতে চিঠি প্রদান করেন। কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। জানা যায়, বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা বিকল্প প্রস্তাব দেয়। নগরী খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত্ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতাল সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কাসেম ইত্তেফাককে বলেন,‘আমরা নিজ উদ্যোগে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে দিচ্ছি। এখানে ১০টি আইসিইউ বেড ও ২০টি আইসোলেশন বেড করা হচ্ছে। প্রস্তুতি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা শুধু হাসপাতাল ব্যবহার উপযোগী করে সরকারকে বুঝিয়ে দেব। পরে সরকারি খরচে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যম চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। চিকিত্সা খরচ ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের পক্ষে খরচ বহন করা সম্ভব নয়।’

এদিকে চট্টগ্রামে সরকারিভাবে করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুত করা জেনারেল হাসপাতালে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে সেন্ট্রালি অক্সিজেন ব্যবহারের সুবিধা নেই। সিলিন্ডার বোতলে অক্সিজেন ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার আইসোলেশনে রোগী ছিল ৭৯ জন। আর আইসিইউতে পর্যাপ্ত রোগী রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ ইত্তেফাককে বলেন, এখানে আর আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেই। জনবলের সংকট রয়েছে।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীর আইসিইউর প্রয়োজন পড়েনি। জেনারেল হাসপাতালের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যালের একটি ব্লক ও হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে রোগীদের আইসিইউ সুবিধা দেয়া যাবে।’