বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন চাল না পাওয়া ভুক্তভোগীরা।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৫০ জন সুবিধাভোগী তালিকায় নাম থাকার পরও চার বছর ধরে ১০ টাকা কেজি দরের চাল পাচ্ছে না। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে সুবিধাভোগীদের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের তদন্তে চাল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত চার বছরে উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ২৩১ টন চাল আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে। এদিকে গৌরীপুর ইউনিয়নের ভিজিডি সুবিধাভোগীরা অবশিষ্ট দুই মাসের চাল এখনো পায়নি। তালিকায় নাম থাকার পরও চার বছর ধরে চাল পাননি বলে আরো অভিযোগ করেছেন অচিন্তপুর ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের ২৭ জন ও চড়াকোনা গ্রামের ২৯ জন সুবিধাভোগী। এ প্রসঙ্গে ডিলার মো. রুমন মিয়া বলেন, কার্ড দেন চেয়ারম্যান আর মেম্বার। চাল পায়নি বা ভুয়া কার্ড এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগ প্রসঙ্গে অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম অন্তর বলেন, চাল বিতরণে সরকারি তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) ছিলেন। আমরা হতদরিদ্রদের নামে কার্ড করে দিয়েছি। চার বছর পর কেউ যদি এসে বলেন তিনি চাল পাননি তাহলে তা দুরভিসন্ধিমূলক।
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, মহামারি কোভিড-১৯-এর প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে খাদ্য সহায়তা তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ করেছেন ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাসিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলতাফ হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ময়নেম হোসেন ও সংরক্ষিত ১,২,৩ এর সদস্য জেসমিন আক্তার। গত ১০ মে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত আবেদনে ঐ ইউপি সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
অভিযোগে ঐ ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যান ছমির উদ্দিন কর্মহীন মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণে তালিকা প্রণয়নে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজের ইচ্ছামত তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ ইউপি চেয়ারম্যান ছমির উদ্দিন বলেন, ঐ সদস্যদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি পরিষদের সভা করে সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত অসহায় মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করেছেন।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের দিবাকরকাঠির দিনমজুর আউয়াল সরদার (৩৫)। প্রতিদিনের রোজগার দিয়ে সংসার চলছিল না তার। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় তার নাম দেয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চালও পায় সে। কিন্তু হঠাত্ করেই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার আরিফ হোসেন খোকন দিনমজুরের কার্ড ফেরত নেয়। বন্ধ হয়ে যায় তার স্বল্পমূল্যে চাল কেনার ক্ষমতা। ১৫ মাস ধরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন না তিনি। করোনাকালে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। পরে জানতে পারেন তার নামের কার্ডটি এখনো সচল রয়েছে, কিন্তু চাল পাচ্ছেন না। তার নামের কার্ডের চাল আত্মসাত্ করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হলে চাপের মুখে ঐ ডিলার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে দিনমজুরের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। শুধু নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের এক জন ডিলারই নয়, ঝালকাঠির জেলা বিভিন্ন স্থানে ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে সরকারের খাদ্যবান্ধব চাল বিক্রি নিয়ে কারসাজির। বিনয়কাঠি গ্রামের বহরমপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, আমার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ইস্যু হইছে, কিন্তু আমি এখনো চাল পাইনি। আমি গরিব মানুষ, করোনায় কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছি।