করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, ঝালকাঠি ও সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আরো তিন জন মারা গেছে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক জন আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। তার নাম মো. হোসেন মুরাদ। গতকাল বুধবার মুনিরনগর মুন্সিপাড়া এলাকার নিজের বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মো. হোসেন মুরাদ জ্বরে ভুগছিলেন। গত রবিবার তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ঐ অবস্থায় হাসপাতালে নিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই মুরাদ মারা যান।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠির নলছিটিতে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথা নিয়ে ঢাকা থেকে আসা নাসির উদ্দিন (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল উপজেলার ভোজপুর গ্রামের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। করোনা উপসর্গে তার মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে। তবে চিকিত্সকরা জানিয়েছে, টাইফয়েডের কারণে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ মে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন নাসির উদ্দিন। তার অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মৃত যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে। নির্ধারিত একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করে।
কলারোয়া সংবাদদাতা জানান, কলারোয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে সালেহা (৬০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম সালেহা বেগম (৫৮)। তিনি উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাবর আলীর স্ত্রী।
কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন বোয়ালিয়া গ্রামের ভ্যান চালক বাবর আলীর স্ত্রী সালেহা বেগম। রোগীর অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনার ইউনিটে পাঠানো হয়। রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরিবার জানায়, মৃত সালেহা গত ১০/ ১২ বছর যাবত্ ব্রেন টিউমারে ভুগছিলেন।