গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ

শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে এবার অনৈতিক ও অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ এনেছে অন্য তিনটি অপারেটর। গতকাল বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসির কাছে তারা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। করোনা মহামারির দুর্যোগে মানুষের অসহায়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণফোনের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিও তাদের।

রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের তিন প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরিত যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোনের এ ব্যাবসায়িক প্রতারণা অবিলম্বে বন্ধ করে তাদের ওপর প্রযোজ্য এসএমপি (সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার) নীতিমালার বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি না করা হলে ছোটো অপারেটরদের এ মার্কেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলালিংকের সিইও এরিক অস এবং টেলিটকের এমডি শাহাব উদ্দিন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির এ দুর্যোগের শুরু থেকেই তিন অপারেটর (রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক) সাধ্যমত দেশের জনগণের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেটা প্যাকের মূল্য ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস, ভয়েস কলের মূল্য ২০ শতাংশ হ্রাস, মেয়াদ শেষ হওয়া সিমের মেয়াদ বৃদ্ধি, জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রদান, চিকিত্সা সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি এবং এলাকা শনাক্তকরণে মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে সরকারকে তথ্য-উপাত্ত প্রদানের মতো নানা পদক্ষেপ।

অথচ সংকটকালীন এ সময়ে শীর্ষ অপারেটর ফ্রি মিনিট ও ডেটা প্রদানের নামে মূল্য যুদ্ধ ঘোষণা করে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করে ছোটো অপারেটরদের কোণঠাসা করে ফেলতে চাইছে। বন্ধ সিম চালুর অফার হিসেবে ১ কোটি মিনিট ফ্রি দেওয়ার কথা বলছে গ্রামীণফোন, যা আসলে একটি মার্কেটিং অফার। অথচ এটিকে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সিএসআর কার্যক্রম বলা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্টার্ড হাই-ভ্যালু ২৫ হাজার চিকিত্সককে ফ্রি ডেটা দেওয়ার নামে বাজার কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করছে গ্রামীণফোন, যা এসএমপি অপারেটর হিসেবে তারা করতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার করোনাকালীন দুর্যোগে গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য ১০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে গ্রামীণফোন। এতে বিনা মূল্যে ১০ কোটি মিনিট, চিকিত্সকদের ৩০ জিবি ফ্রি ডেটা, রিটেইলারদের ব্যাবসায়িক সহযোগিতা প্রদানসহ বেশ কয়েকটি ঘোষণা দেয় তারা। প্রায় সবগুলো পদক্ষেপই নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে বাজারমুখী পদক্ষেপ যা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় ছোটো অপারেটরদের টিকে থাকার স্বার্থে এসএমপি বিধিমালার বাস্তবায়ন জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করার দাবি জানানো হয় রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের যৌথ চিঠিতে।