নারীর স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে মহিলা পরিষদের আহ্বান

জেন্ডার বাজেটবিষয়ক অনলাইন সভা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী বাজেটে নারীর স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গত বুধবার অনুষ্ঠিত পরিষদের জেন্ডার বাজেটবিষয়ক এক অনলাইন সভা থেকে এ আহ্বান করা হয়। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভার শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় আলোচক ছিলেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান ও সায়মা হক বিদিশা। আলোচকগণ আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গার্মেন্টস সেক্টরের  শ্রমিকদের মজুরির নিশ্চয়তা দেওয়া এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ রাখা, ফেরত আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের দক্ষতার জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে ঐসকল কাজে তাদেরকে যুক্ত করা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোকে আরো জেন্ডার সংবেদনশীল করা এবং এ বিষয়ে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

এছাড়া কৃষি পণ্য সংরক্ষণে সহায়তা এবং কৃষিতে নারীর মজুরিবিহীন শ্রমকে মূল্যায়নের জন্য খাদ্যসাহায্যের প্যাকেজের  জন্য খাদ্যসামগ্রী তাদের কাছ থেকে সরাসরি কেনার সুপারিশ করেন তারা। বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে সেখানে দুই জন গ্যারান্টারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এ বছর এই দুই জন গ্যারান্টারের স্থলে এক জন গ্যারান্টার করার জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া নারীদের কর্মসূচি বৃদ্ধি করা, নিজ এলাকা ছেড়ে যে সকল নারী খণ্ডকালীন কাজ করতেন, তাদের এলাকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে  আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে নারীদের যুক্ত করা, ১০০ দিনের কর্মসূচির আওতায় মাটি কাটা বা এই ধরনের কাজে নারী শ্রমিকদের অধিক যুক্ত করা।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি করা এবং প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার সুপারিশও করা হয়। সেফটি  নেট কর্মসূচির আওতায় নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় কাজের ক্ষেত্রকে বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া, শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ করতে স্কুলগামী মেয়ে শিশুদের জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা এবং স্কুলে টিফিন চালু করার সুপারিশ করা হয়।

পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখা, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী পাচার রোধে পৃথক কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং বাজেটে এ বিষয়ে বরাদ্দ রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।