বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ভাঙচুর আগুন, সংঘর্ষ

বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস এবং করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে টঙ্গী শিল্পাঞ্চল এলাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি নামি-দামি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভসহ কারখানা ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। এসময় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া একই দাবিতে আশুলিয়া এবং চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাক ও সুতাকল শ্রমিকরা।

পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, টঙ্গী শিল্পনগরীর বিসিক এলাকার রেডিসন গার্মেন্টস, প্যাট্রিয়ট ইকো অ্যাপারেলসসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা সকাল ৮টায় বিসিক এলাকায় আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে আরো কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক একত্র হয়ে মেঘনা রোডের আলম টাওয়ারের ব্রাভো অ্যাপারেলস, মা টাওয়ারের এমট্রানেট অ্যাপারেলস, মিলগেট এলাকার হামিম গ্রুপের দ্যাটস ইট গার্মেন্টস কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। উত্তেজিত শ্রমিকরা হামিম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা মিলগেট প্রধান সড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় দিকে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের তীব্র জট সৃষ্টি হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করেছিল, তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।                                       গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, লকডাউন চলাকালে যে সব কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করতে পারেননি শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের বেতনের ৬০ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শ্রমিকরা শতভাগ বেতন, ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক রিপোর্টার জানান, সাভারের আশুলিয়ায় বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কারখানায় ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে মেডলার অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছুড়েছে পুলিশ।

শিল্প পুলিশ জানায়, বুধবার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বেতন না পেয়ে গতকাল শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি জানান, যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলার জন্য কারখানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বগুড়া স্টাফ রিপোর্টার জানান,  শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত রনক স্পিনিং মিলে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। তখন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। পরে বগুড়ার শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান ও রনক স্পিনিং মিলের করপোরেট জিএম আব্দুল কাদের বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়াও সংঘর্ষে আহতদের চিকিত্সার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা  দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কাজে  যোগদান করেন।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, শতভাগ বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। গতকাল হাটহাজারী উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় ফোর এইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফোর এইচ লিঙারী কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনের সড়কে জড়ো হয়ে এই বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকরা জানান, কারখানায় ২৭০০ শ্রমিক কাজ করছেন। লকডাউন ঘোষণার পর কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত ২১ এপ্রিল থেকে আবার কারখানা চালু হয়। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ৬০ শতাংশ বেতন দিতে চায়। পুরো বেতন না দেওয়ার বিষয়টি শুনে তারা রাস্তায় নেমে এসেছেন। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে বসে তাদেরকে বিষয়টি সমাধান করতে বলা হয়েছে।