দেশে প্রথমবারের মতো বিলুপ্তপ্রায় বৈরালি মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। দেশে এই মাছ বারালি, বরালি ও কোকসা নামেও পরিচিত। এ মাছের আরো পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। আইইউসিএন’-এর তথ্যমতে, বৈরালি মাছকে ইতিমধ্যে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে একসময় এ মাছটি বৃহত্তর সিলেট, নেত্রকোনা ও রংপুর অঞ্চলে পাওয়া যেত। বর্তমানে মূলত রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদী ও খালের স্বচ্ছ পানিতে সীমিত আকারে বৈরালি মাছ পাওয়া যায়। তবে দেশের বাহিরে ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারেও এ মাছের বিস্তৃতি রয়েছে। মাছটি খেতে সুস্বাদু এবং বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়।
মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক নানা কারণে এ মাছের প্রাচুর্য সাম্প্রতিককালে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সুস্বাদু এই মাছকে বিপন্নের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে গত ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরস্থ স্বাদুপানি উপকেন্দ্র থেকে গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষক দলে ছিলেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকতা শওকত আহম্মেদ। রংপুর অঞ্চলের চিকলি, বরাতি, বুড়িখরা ও তিস্তা নদী হতে বৈরালি মাছ সংগ্রহ করে গবেষণা উপকেন্দ্রের পুকুরে প্রতিপালন করা হয়।
গবেষণায় উপকেন্দ্র থেকে চলতি বছরের মার্চ/২০২০ মাসে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বৈরালি মাছের পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পরিপক্ব (১৫-২৫ গ্রাম ওজনের) বৈরালি মাছের ডিম ধারণক্ষমতা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ মাছের প্রজননকাল নভেম্বর-মার্চ। তবে সর্বোচ্চ প্রজননকাল হচ্ছে জানুয়ারি মাস। প্রজনন মৌসুমে গবেষণা পুকুর হতে সুস্থ সবল পরিপক্ব পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে হ্যাচারিতে অক্সিজেন প্রবাহসহ কৃত্রিম ঝরনায় ছয়-আট ঘণ্টা রাখা হয়। পরবর্তীতে ওভোহোম হরমোন প্রয়োগ করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জিত হয়।
এ সাফল্যের ফলে পর্যায়ক্রমে এ মাছের সকল প্রজাতিকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানান।
এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ গতকাল ইত্তেফাককে জানান, সুস্বাদু বৈরালি মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে বৈরালি মাছকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।