করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতে চলছে লকডাউন। আগামী ১৭ মে চলমান লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলে আবার নতুন করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এবার লকডাউনে থাকবে নতুন নিয়ম। সীমিত আকারে চালু হতে পারে বিমান, বাস, ট্যাক্সি ও অটোসহ স্থানীয় গণপরিবহন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতে যাত্রীসংখ্যা সীমিত রেখে শুরু হতে পারে বাস, ট্যাক্সি ও অটো পরিষেবাও, তবে সব যানবাহনই চলবে করোনা ভাইরাসের হটস্পট নয় এমন জায়গাতে। বিষয়টি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রবীণ কর্মকর্তা।
খবরে বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রবণতা বিবেচনা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পথে ফিরতেই হবে, তাই প্রথমেই শিথিল করা হতে পারে বিমান ও স্থানীয় পরিবহনগুলো চলাচলে জারি রাখা নির্দেশিকা। ইতিমধ্যেই একটি খসড়া প্রস্তাবও তৈরি করেছে সরকার। সেই সঙ্গে রাজ্যগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার হয়তো তাদের হাতেই দেওয়া হতে পারে করোনা হটস্পট নির্ধারণের ক্ষমতা।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন লকডাউনের সময় যাত্রীসংখ্যা সীমিত রেখে চালু করা হতে পারে বাস, ট্যাক্সি ও অটো। তবে সব যানবাহনই চলবে করোনা ভাইরাসের হটস্পট নয় এমন জায়গাতেই। মূলত নন-কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতেই চলাচল করবে সেগুলো।
তিনি বলেছেন, যেহেতু রাজ্যগুলোই এবার তাদের হটস্পটগুলি নির্বাচন করবে, তাই সেই গাইডলাইন মেনেই ওই অঞ্চলগুলিতে কোনো যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বাকি অংশে বিধিনিষেধে শিথিলতা থাকতে পারে।
এদিকে অন্যান্য রাজ্যগুলোতে লকডাইন শিথিল করার কথা ভাবা হলেও কড়া বিধিনিষেধ বহাল থাকার সম্ভাবনা মহারাষ্ট্রে। কারণ সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে এ রাজ্যে। আর মহারাষ্ট্রের পরেই আছে গুজরাট।
ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করনা ভাইরাসে নতুন করে একশ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশটিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৭ জন। শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উহানের ৩০ লক্ষ বাসিন্দার করোনা পরীক্ষা সম্পন্ন!
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৯৭০ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ৬৪৯ জন । এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ২৭,৯২০ জন।
ইত্তেফাক/আরআই