মানুষের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দ রেফারি বাবুর

ফিফা সভাপতির অভিনন্দন

স্পোর্টস রিপোর্টার

একজন ফুটবলারের তুলনায় রেফারির তারকা হওয়ার সুুযোগ কম। মাঠের খেলায় রেফারি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেও খেলা শেষে খেলোয়াড়দের নিয়ে যতটা মাতামাতি হয় তার ছিটেফোঁটাও হয় না ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের নিয়ে। তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলা পরিচালনা করেন। তাদের কাছে এটা একটা থ্যাংকস লেস জব। জীবন জীবিকার পথ এনে দেয়া না এই পেশা। আছে ঝুঁকি, শারীরিক আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে প্রতিমুহূর্ত। তারপরও ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় বাঁশি হাতে মাঠে নামনে দেশের রেফারিরা। সাবেক তারকা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু ২০১৫ সালে ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা ছেড়েছেন। সাতক্ষীরার এই মানুষটি করোনা আক্রান্তদের পাশে থাকার জন্য নিজের স্মৃতিময় একটি জার্সি নিলামে বিক্রি করেছেন। সেই অর্থ আক্রান্ত কিংবা করোনার কারণে যারা দুস্থ অবস্থায় আছেন তাদের জন্য ব্যয় করবেন তিনি। তৈয়ব হাসান বাবুর এমন মহতী উদ্যোগের কথা শুনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিও প্রশংসা করেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফিফার সভাপতির অভিনন্দন যে কোনো রেফারির জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। অনেক বড়ো বড়ো কর্মকাণ্ডেও ফিফার অভিনিন্দন পাওয়া কঠিন। আর তৈয়ব হাসান বাবু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এটা ফুটবল ঘরের মানুষের মন ছুঁয়েছে। ফিফা হতে অভিনন্দন বার্তা এসেছে। দিল্লিতে ফিফার ডেভেলপম্যান্ট অফিসের প্রধান নিজেও তৈয়ব হাসান বাবুকে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতির সম্মানের কথা। তৈয়ব হাসান বাবু জানালেন আর কোনো রেফারি এমন অভিনন্দন পেয়েছেন কি না, তার জানা নেই। তবে এটা আমরা একার নয়, ফুটবলের সবার সম্মানের।

প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্নার আবাহনীর একটি আরেকটি বাংলাদেশ লালদলের জার্সি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২০১৩ সালে নেপালে সাফের ফাইনাল চালানো তৈয়ব হাসান বাবুর জার্সিও বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। বাবু বললেন, ‘মুন্না গ্রেট ফুটবলার। আমিও মুন্নার খেলা চালিয়েছি। তার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি মুন্নার জার্সিটি আরো বেশি মূল্যে বিক্রি হওয়া উচিত ছিল।’