আক্রান্ত ২০ হাজার ছাড়াল

দিন যত যাচ্ছে, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের পরিমাণ তো বটেই, সংক্রমণের হারও বাড়ছে। যত বেশি নমুনা পরীক্ষা চলছে, তত বাড়ছে সংক্রমণ সংখ্যা। সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার দুই মাসের মাথায় এসে যেন সর্বোচ্চ গতি পেয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। যে কারণে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে আক্রান্ত ও মৃত্যুসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব সংখ্যাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২০২ জন করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। একদিনে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক সংক্রমণ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৫ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯৮ জন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে           এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৭৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৮৮২ জন। এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৯৮ পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৪১ জনে। এ সংখ্যা ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের ১৫ মে সকাল পর্যন্ত। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ১০৪১ জন। পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রয়েছেন ১১৫২ জন ও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায়  কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৯১ জনকে। এ পর্যন্ত ৩৩৩ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন সাত জন।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তে ঢাকা বিভাগের ধারে-কাছেও নেই দেশের অন্যান্য বিভাগগুলো। তবে ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার একটু কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এলাকাভিত্তিক চিত্র তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে মোট আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রোগীর হার কমে এখন ৭৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। আগে তা ছিল ৮০ শতাংশের বেশি। ঢাকা মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা দেশের মোট রোগীর ৫৮ দশমিক ১১ শতাংশ। মহানগরী ছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলার রোগীর সংখ্যা দেশের মোট আক্রান্তের ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দেশের মোট আক্রান্তের ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগের, ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ রংপুর বিভাগের, ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিলেট বিভাগের, ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ রাজশাহী বিভাগের এবং ১ দশমিক ১০ শতাংশ বরিশাল বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়, ঐ সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৫৮ জন। এপ্রিলের শেষ সাত দিনের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল ৩৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪৩৮ জন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৫ দশমিক ৩১ ভাগ বেশি। এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহেও আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছিল আক্রান্তের হার। অর্থাত্ ধারাবাহিকভাবেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বৃদ্ধির এই হারও কমছে না কোনোভাবেই। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেছে একদিনে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত এপ্রিলে একদিন ছয় শতাধিক শনাক্তের রেকর্ড ছিল। সেখানে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কেবল দুই দিন ৬০০-এর কম ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। বাকি পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিনই শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭০০-এর বেশি। এর মধ্যে ৬ মে সর্বোচ্চ ৭৯০ জনের আক্রান্তের সংখ্যা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।