বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ৭০০ কোটি ডলার

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে রপ্তানিনির্ভর স্বল্পোন্নত দেশগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ তৈরি পোশাকসহ পণ্য রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাপকহারে। রপ্তানির মূল বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে চাহিদা কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লেসোথা ও হাইতির তৈরি পোশাক রপ্তানি কমতে পারে অন্তত ২০ শতাংশ। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গাম্বিয়া ও নেপালের মতো স্বল্পোন্নত দেশও। জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এক পলিসি প্রতিবেদনে এ ক্ষতির প্রাক্কলন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে কমে যাবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সও। এসব কারণে গত কয়েক বছরে স্বল্পোন্নত এই দেশগুলোর দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে সফলতায় বড়ো ছেদ পড়বে। দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসে বিপুলসংখ্যক মানুষ ফের দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। সম্প্রতি সংস্থাটির এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানির ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। সেই হিসেবে করোনার কারণে আগামী এক বছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমতে পারে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার বা ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। অবশ্য দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, এই ক্ষতি আরো বেশি হবে। তৈরি পোশাকখাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের হিসাবে করোনার প্রভাবে প্রাথমিক ধাক্কায় রপ্তানি কমবে ৪০ শতাংশ। এর পর         ধীরে ধীরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আগামী এক বছরে তেমন আশা দেখছি না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ খাতে এতো শ্রমিক কাজ করে। সামাজিক বিপর্যয় এড়াতে হলে বিদেশি ক্রেতাদের ‘টেকসই’ মনোভাব নিয়েই এগিয়ে আসতে হবে।

একই মতামত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সংস্থাটির প্রাক্কলন অনেক আশাপ্রদ। কিন্তু বাস্তবতা আরো বেশি খারাপ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি অন্তত ৪০ শতাংশ কমবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অনেক নামিদামি ক্রেতা বা ব্র্যান্ড দেওলিয়া হয়ে যাচ্ছে। উত্পাদন খরচ না উঠলে কারখানা মালিকরা ধার করে কতদিন চালাবেন। দেশে ছোটো ও মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাবে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ৮০ ভাগ পোশাকই রপ্তানি হয় ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে। এসব দেশে কর্মসংস্থান কমছে, কমছে মানুষের আয়। ফলে গার্মেন্টস পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমবে। কেবল এ কারণেই এসব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই থেকে তিন শতাংশ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রবাসী আয় কমে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণে সার্বিকভাব জিডিপি কমতে পারে চার শতাংশের মতো। এর মধ্যে হাইতি ও লেসোথোর মতো দেশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকেও যেতে পারে।