৮০ বছরের এক বৃদ্ধের করোনা জয়ের গল্প। বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিনকে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে আনার পর চিকিত্সক ও নার্সরা ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেন। তাকে সম্বোধন করে চিঠি দেওয়া হয়। এটা দেখেই মোসলেম উদ্দিনের মনোবল বেড়ে যায়। শুরু হয় করোনার সঙ্গে যুদ্ধ। বয়স বেশি হওয়ার কারণে নানা রকমের শারীরিক জটিলতা ছিল তার। তাই তার সুস্থতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক এবং আত্মীয়স্বজনেরা সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন।
কিন্তু গত ৬ মে সকালে করোনা আক্রান্ত মোসলেম উদ্দিনের হাতে পৌঁছে আরেকটি চিঠি। আর সেই চিঠি পেয়ে যেন নতুন জীবন ফিরে পেলেন তিনি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। এর পর তাকে আবারও ফুল দিয়েই হাসপাতাল থেকে বিদায় জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা।
করোনা জয়ের এই গল্পের ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে। দেশে করোনা রোগীর চিকিত্সায় একমাত্র এই হাসপাতালে কোনো নতুন রোগী যাওয়ামাত্রই একটি চিঠি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর ওই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় একইভাবে ফুল দিয়ে বিদায় জানানো হয়। চিঠিটি করোনাজয়ী রোগীদের যুদ্ধে জেতার সনদের মতো কাজ করছে।
রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম নুরুন নবী ইত্তেফাককে বলেন, গত ৩১ মার্চ হাসপাতালটি চালু হয়। এটি শিশু হাসপাতাল হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছিল। এর বাহ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের পর এটিতে ১০০ টি বেড স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১০ টি বেড আইসিইউ। প্রাথমিকভাবে একজন করে তত্ত্বাবধায়ক, আরএমও, ইএমও এবং ট্রেইনার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে তিন জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২০ এপ্রিল থেকে করোনা রোগী ভর্তি শুরু হয়। বুধবার পর্যন্ত ৪৩ জন ভর্তি হয়েছে। ভর্তিকৃতদের মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।