গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ বালুয়া গ্রামে ফরমান মিয়ার (২৫) বাড়ি। উচ্চমাধ্যমিক পাশ ফরমান মিয়া অনেক ঘোরাঘুরি করেও চাকরি পাননি। পরে শুরু করেন পোলট্রি ব্যবসা। গত বছর ১ হাজার লেয়ার মুরগির বাচ্চা কেনেন ৪২ হাজার টাকা খরচ করে। ছয় মাস পর ডিম দেওয়া শুরু করে সেগুলো। দৈনিক গড়ে ৮০০ ডিম আসতো। প্রতিটি ডিম ছয় টাকা হিসেবে দৈনিক ডিম বিক্রি করতেন ৪ হাজার ৮০০ টাকার। খরচ বাদ দিলে মাসে ১৫ হাজার টাকার মতো লাভ থাকতো। বেকার জীবনের অবসান ঘটে কর্মজীবনের শুরু হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ডিমের দাম কমে ৫ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে মাসিক লোকসান প্রায় ৯ হাজার টাকা। ফরমান বলেন, একমাস লোকসান দিয়েছি। এরপর গত ১০ মে সব মুরগি বিক্রি করে দিয়েছি। বিক্রিতেও লোকসান হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন খামার আছে, কিন্তু মুরগি নেই। হাতে কোনো কাজও নেই। বসে বসে দিন কাটাচ্ছি। ফরমান মিয়ার মতো গাইবান্ধার অসংখ্য পোলট্রি খামার মালিক লোকসান গুনছেন। কারণ গত একমাস ধরে পোলট্রি ব্যবসায় ধস নেমেছে। গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ১ হাজার ৭৯৯টি মুরগি ও হাঁসের খামার রয়েছে। এরমধ্যে ব্রয়লার ৬৯৪টি, লেয়ার ৭০২টি, সোনালী ১২৩টি ও হাঁসের খামার ২৮০টি। শুক্রবার গাইবান্ধার কয়েকটি পোলট্রি খামার ঘুরে দেখা গেছে খামারিদের এই দুর্দশার চিত্র। অনেক খামার দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ভিতরে মুরগি নেই।
এসব বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুস ছামাদ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে যানবাহন বন্ধ। বাইরের পাইকাররা আসতে পারছেন না। এছাড়া জেলা ও উপজেলা শহরের দোকানপাট, হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। ফলে ডিমের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে ডিমের দামও কমে গেছে। ফলে খামারিদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। তবে খামারিদের মনোবল না হারাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।