চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে মার্কিন সিনেটে বিল অনুমোদন

চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে মার্কিন সিনেটে একটি বিল পাশ হয়েছে। উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিমদের ওপর দমন পীড়ন ও নির্যাতনের কারণে চীনকে শাস্তি দিতেই বৃৃহস্পতিবার বিলটি পাশ করা হয়। বিলে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা দেশটির সম্পদ জব্দের কথাও বলা হয়েছে। উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস এ বিলকে স্বাগত জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

করোনা ভাইরাস নিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করছেন তখনই এই ধরনের একটি বিল সিনেটে পাশ হলো। চীনের বিরুদ্ধে ‘ভিসা ও সম্পদ জব্দ’ শীর্ষক বিলটি সিনেটে আনেন রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও।

নতুন বিলে দমন অভিযানে দায়ী চীনা কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটিতে থাকা সম্পদ জব্দের কথা বলা হয়েছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেটে সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাশ হলেও ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের         স্বাক্ষর হলে এটি আইনে পরিণত হবে।

জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর ও তার্কিকসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু মুসলমানদের ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগে চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই বিল তোলা হয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মুসলিমকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। তবে বেইজিং বলছে, আটক করা হয়নি, তাদের সেখানে ভকেশনাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিলটি পাশের পর এক টুইটার বার্তায় মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, বিলের মাধ্যমে চীনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে জবাবদিহি করা সম্ভব হবে। বিলে মানবাধিকারের লঙ্ঘনের দায়ে চীনের প্রভাবশালী পলিটব্যুরোর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে চীনের উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের জন্য একটি বিল পাশ করে প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটিতে এ ইস্যুতে ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এর জবাবে চীন বলে, যুক্তরাষ্ট্রকে এর মূল্য দিতে হবে। তবে নতুন বিল পাশের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।