ঘরে জমানো সঞ্চয় নেই। ভরসা দিনের আয়েই। বন্ধ কারখানার চাকা। ফলে হাতে কোন কাজ নেই। জুটছে না খাবারও। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলেও কারো কাছে সহায়তার জন্য হাত পাতারও স্বভাব নেই ওদের। কিন্তু ওদের জন্যই ‘মানুষ মানুষের জন্য’ কথাটি আবার সত্যে প্রমাণিত করেছে তামাই ক্লাব লিমিটেড।
স্থানীয় উদ্যমী, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবাজ তরুণরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে চরম দুর্দিনের ঘূর্ণিপাকে হাবুডুবু খাওয়া সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহাজাদপুরসহ বিভিন্ন তাঁত পল্লীর কারিগরদের কাছে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে নিজেদের সমর্পণ করেছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে। তাদের প্রত্যেকেরই সম্মিলিত এক প্রয়াসের নাম ‘তামাই ক্লাব লিমিটেড’।
অসহায়ের সহায় এ ক্লাব রীতিমতো তালিকা করে প্রকাশ্যে লাইনে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিকে বর্জন করে সঙ্গোপনে প্রতিটি তাঁত পল্লীর শ্রমিকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে খাবার সহায়তা।
সামাজিক মান মর্যাদার ভয়ে নিজেদের সঙ্কটের কথা বলতে পারছে না এমন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো খুশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় তাঁত পল্লীর শ্রমিকদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করেই ইতোমধ্যেই দুই দফায় প্রায় দুই হাজার পরিবারকে অন্তত ৫ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ নয়, ভালোবাসার উপহারের প্যাকেটে তাদের জন্য রয়েছে- ৬ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি চিনি, এক লিটার করে তেল, এক কেজি করে পেঁয়াজ, এক প্যাকেট সেমাই ও হাফ কেজি লবণ।
আগামী দু’একদিনের মধ্যে আরও প্রায় এক হাজার তাঁত পল্লীর পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে তামাই ক্লাব লিমিটেড। প্রস্তুত হয়েছে কর্মহীনদের তালিকা। এখন রাতের আঁধারে নীরবে-নিভৃতে তাদের ঘরে ভালোবাসার উপহার পৌঁছে যাওয়ার অপেক্ষা।
ইত্তেফাক/বিএএফ