মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার চেয়েছে এই খাতের পাঁচটি ব্যবসায়ী সংগঠন। একইসঙ্গে করোনাকালে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইসিটি প্রকল্পগুলোকে সর্বনিম্ন অগ্রাধিকার (সি ক্যাটাগরিতে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, করোনা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বড় অবদান রাখছে তথ্যপ্রযুক্তি। তাই এই খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আগামী বাজেটে ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৫টি বাণিজ্য সংগঠনের বাজেট প্রস্তাব পেশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সভাপতি শহিদ-উল মুনির, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরিফ এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, করোনা সংকটকালিন সময়ে বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমসমূহ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঘরবন্দী মানুষ তাদের খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি নানাবিধ পণ্য ও সেবা ঘরে বসেই অনলাইনে ক্রয় করতে পারছে। সরকার পরিচালিত ওয়েবসাইট https://corona.gov.bd/ এর মাধ্যমে করোনা সংক্রান্ত যে তথ্য উপাত্ত নিয়মিত অপডেট এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে যেসব তথ্য ট্র্যাকিং করা হচ্ছে তাও বিভিন্ন সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা কোম্পানিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় তাই প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভুত হচ্ছে। করোনার মত বৈশ্বিক মহামারীর ফলে গোটা পৃথিবীর সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য ও উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো বন্ধ হয়নি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতগুলো। বরং মানুষ তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া উদ্যোগ যেমন ই-কর্মাস ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য, অনলাইন প্লাটফর্মের সাহায্যে অফিস, দূরবর্তী শিক্ষা, যোগাযোগ, আর্থিক সাহায্য, ডোনেশান ক্যাম্পেইন, তথ্যসেবা, টেলি মেডিসিনের সাহায্যে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা প্রভৃতি চলছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতের উপর নির্ভর করেই। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে অনলাইন কোর্টের মাধ্যমে কেস নিস্পত্তি করার প্রক্রিয়া।
বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী রপ্তানিমুখি শিল্প, সেবা খাত ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে ঘোষণা করলেও এর সুবিধা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিতে পারছে না। কারণ ব্যাংকগুলো বলছে, তাদের কাছ থেকে আগে ঋণ নেওয়া না থাকলে কিংবা বাড়ি অথবা জমি মর্টগেজ না রাখলে তাদের পক্ষে লোন দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য এ খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা নিতে পারে সেজন্য সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ উল মুনীর বলেন, আইসিটি কোম্পানিগুলো ২% সরল সুদে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ নিতে পারে সে বিধান থাকা দরকার এ ঋণে। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পনা মোতাবেক বিভিন্ন ই-গভর্নেন্স প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সকল প্রকার নাগরিক সেবা অনলাইনে প্রদান করা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে।
পাঁচ সংগঠনের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, আসন্ন বাজেটে সফটওয়্যার ও আইটিইএস-এর ওপর প্রদত্ত আয়কর অব্যাহতির স্বপক্ষে ট্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজীকরণ, আইটিইএস-এর বর্তমান সংজ্ঞায় বাদপড়া বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্তি এবং ই-কমার্স ও আইএসপি সার্ভিসকে আইটিইএস-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি ও এনটিটিএন) খাতে ১৫% ভ্যাট এর পরিবর্তে ০% করা, ই-কমার্স খাতকে কর্পোরেট কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ভ্যাট থেকে অন্তত আগামী তিন বছরের জন্য অব্যাহতি দিতে হবে। করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আইটি সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের যেসব বিল আটকে রয়েছে সেগুলো অতি দ্রুততার সাথে পরিশোধের বিষয়েও সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান ব্যবসায়ী নেতারা।