করোনায় পুরুষদের বাসায় ইতিকাফ: ইসলাম কি বলে?

রমজান মাস বান্দার মুক্তি ও কল্যাণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক অপার নেয়ামত। এ মাস একজন মুমিন নিজেকে পরিপূর্ণ মুত্তাকী হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণের সময়ও বটে। এ মাসে অনেকগুলো ইবাদতের মধ্যে ইতিকাফ অন্যতম। ইতিকাফ সুন্নাহ হলেও গুরুত্ব বিবেচনায় ইসলামে এটির অবস্থান খুবই শক্তিশালী। পুরো রমজান ব্যাপী বিভিন্ন কারণে যারা ইবাদত পালনে প্রয়োজনীর সময় দেয়া এবং মনোযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন তাদের জন্য এবং লাইলাতুল ক্বদর প্রাপ্তির জন্য ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই লাইতুল ক্বদর প্রাপ্তি ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য বলেই রাসূল (স:) ইনতিকালের আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ পালন করতেন (বাখারী-২০২৬ ; মুসলিম-১১৭২)।

সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে ইতিকাফ সুন্নাহ হলেও এটি পালন করার স্থান হিসেবে মসজিদকে উল্লেখযোগ্য ফকীহরা শর্তারোপ করেছেন, কারণ হিসেবে তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন (বাক্বারা- ১২৫ ও ১৮৭)। কিন্তু দুনিয়াব্যপী করোনা মহামারীর প্রকোপে পৃথিবীর অনেক দেশেই দীর্ঘ লগডাউনের কারণে মসজিদ সমূহ বন্ধ থাকায় পুরুষদের পক্ষে মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুরুষদের বাসায় অবস্থানরত অবস্থায় ইতিকাফের বিধান নিয়ে ইতিবাচক চিন্তার বিষয়ে সমসাময়িক স্কলাররা বিভিন্ন দালীলিক প্রমাণ উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

আন্তর্জাতিক মুসলিম ওলামা ইউনিয়নের সদস্য ড. আকরাম কাস্সাবর দৃষ্টিতে হঠাৎ তৈরি হওয়া বৈরী পরিস্থিতির কারণে যদি মসজিদে গিয়ে ইতিকাফ করা না যায় তাহলে সেক্ষেত্রে বাসায় অবস্থান করে ‘মাসজিদুল বাইত’ বা বাড়িতে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় ইতিকাফ করা বৈধ । মসজিদে গিয়ে ইতিকাফ করতে পারা বা না পারা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, বরং করোনার মত একটি আপতিত সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে মসজিদে যাওয়া থেকে ব্যক্তি বিরত রয়েছে, যেহেতু আল্লাহ মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে কোন কিছু করতে নিরুৎসাহিত করেছেন (বাক্বারা-২৮৬), এবং ব্যক্তিকে তার সক্ষমতা অনুযায়ী তাকওয়ার অধিকারী হতে বলেছেন (তাগাবুন-৬৪), সেহেতু ইতিকাফ পালন করার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করার ক্ষেত্রে বাসায় অবস্থান করা ব্যতিরেকে আপাতত অন্যকোন কোন সক্ষমতা নেই বলে তার জন্য বাসায় ইতকাফ করা বৈধ । রাসূল (স:) নিজেও সক্ষমতা অনুযায়ী তাকওয়া পরিপালনে উৎসাহিত করেছেন এবং যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা ও মতপার্থক্য তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন, ‘আমি যা নিষেধ করেছি তা থেকে পরিপূর্ণভাবে দূরে থাক, আর যা পালন করতে বলেছি, তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন কর, তোমাদের পূর্ববর্তীরা মূলত অতিরিক্ত প্রশ্ন ও নবীদের সাথে মতপার্থক্যের কারণেই ধ্বংস হয়েছে’ (মুসলিম- ১৩৩৭)।
 
অন্যদিকে ক্বাওয়েদুল ফিকহের (শরয়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছার মাধ্যম) দুটি গুরুত্বপূর্ণ মেক্সিমের একটি হল ‘কাঠিন্যতা সহজতর পদ্ধতিকে অনুসরণ করে’। সুতরাং যেহেতু করোনার ভয়াবহতায় মসজিদ বন্ধ থাকার কারনে সেখানে গিয়ে ইতিকাফ পালন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, এক্ষেত্রে ক্বায়েদার আলোকে ইতিকাফের সহজতর মাধ্যম হচ্ছে বাসায় অবস্থান করে ইতিকাফ পালন করা । কাঠিন্যতাকে ফকীহরা দুইভাগে ভাগ করেছেন; এক: এমন সব স্বাভাবিক কাঠিন্যতা যেগুলো ইবাদত না করা, শিথিল করা কিংবা ইবাদত ছেড়ে দেয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি করেনা । যা মূলত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন; ঘর থেকে মসজিদ দূরে হওয়া কিংবা এমন সব শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যা ইবাদত পালনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা নয় । এ ক্ষেত্রে আবু হুরাইরা (রা:) থেকে একটি হাদিস আমরা দেখতি পাই। তিনি বলছেন, ‘একজন অন্ধ ব্যক্তি রসূল (স:) এর কাছে এসে বললেন, আমার এমন কোন সাহায্যকারী নেই যে আমাকে (পথ দেখিয়ে) মসজিদে নিয়ে আসবে, আপনি কি আমাকে নামাজের জন্য মসজিদে আসা থেকে শিথিলতা দিবেন? রাসূল (স:) (প্রথমে) তাকে শিথিলতা দিলেও পরক্ষণেই ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‍তুমি কি আজান শুনতে পাও? তিনি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে রাসূল (স:) তাকে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে বললেন (মুসলিম-৬৫৩)। 

দুই: এমন সব কাঠিন্যতা যেগুলো ইবাদত পরিত্যাগে কিংবা পালনে শিথিলতা আনয়নের মত পরিস্থিতি তৈরি করে। যেমন, এমন পরযায়ের কাঠিন্যতা যা ব্যক্তি ও সামষ্টিকভাবে জীবন, সম্পদ ও অন্যান্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, কাঠিন্যতার এই অবস্থায় ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সামগ্রিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইবাদতের মধ্যে (পদ্ধতি ও পরিমাণে) শিথিলতার অনুমোদন করে (ক্বাওয়াযেদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আন’আম: ২/৮, ২/১১৬; আল-ফুরুক : ১/১১৮) । সুতরাং এ ক্ষেত্রে কাঠিন্যতার তারতম্যের ভিত্তিতে ইবাদতের শিথিলতা হচ্ছে বাসায় অবস্থান করে ইতিকাফ করা । 

অন্য ক্বায়েদা, যেটি ‘সংকীর্ণতা প্রশস্ততাকে অগ্রাধিকার দেয়’, তার আলোকে আমরা মসজিদে যাওয়ার অপারগতাকে ইতিকাফ পালনের সংকীর্ণতা গণ্য করে তার বিকল্প হিসেবে বাসায় ইতিকাফ করাকে প্রশস্ততা হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারি। যেটি কুরআনের সেই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যশীল যেখানে আল্লাহ বলছেন, ‘যদি সে অক্ষম হয় তবে তাকে সহজ করিয়া দাও’ (বাক্বারা-২৮০)। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা যেহেতু দুর্বলতা বা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, সেজন্য যেখানে ইবাদত পালনে ব্যক্তির অক্ষমতা পরিলক্ষিত হবে সেখানে আল্লাহ  ইবাদত সম্পাদনের জন্য বৈধ ও সহজতার বিকল্প পদ্ধতির ব্যবস্থা রেখেছেন (সূরা নিসা: ২৮) । ওজুর জন্য ব্যবহার উপযোগী পবিত্র পানি না পাওয়া গেলে কিংবা পানি ব্যবহারে শারীরিক অসুস্থতার সম্ভাবনা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে তয়ম্মুম করা, যুদ্ধের ময়দানে প্রয়োজনে নামাজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনয়ন, পরিস্থিতির কারণে কিবলা পরির্তন করে নামাজ আদায় এ সবই মূলত দীন পালনে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজতর বিকল্প। আর সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা দীন পালনে কোন কষ্ট রাখেননি বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন (মায়েদা-০৬; আরাফ-০২; হজ্জ- ৭৮) । 

অন্যদিকে হানাফি মাজহাব ও শাফেঈ মাজহাবের আলোকে কোন কারণ ছাড়াই মহিলাদের ঘরে বসে ইতিকাফ উত্তম বলে যে মতামত পাওয়া যায় তার আলোকেই জরুরাতের ভিত্তিতে পুরুষদের জন্য বাসায় ইতিকাফের বৈধতার প্রমাণ মেলে, যদিও মালেকি মাজহাব যেকোন সুন্নাহ বা নফলকে পুরুষ মহিলা সবার জন্যই বাসায় পালন করাকেই বেশি উত্তম মনে করে থাকে (ফাতহুল বারী-৪/২৭২)। অন্যদিকে শারীরিকভাবে মসজিদে যেতে অক্ষম, পক্ষাগাতগ্রস্ত রোগীদের ব্যাপারে বাসায় ইতিকাফ করা বৈধ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন মালেকী ও শাফেঈ মাজহাবের বেশীরভাগ ফকীহরা, বিশেষ করে, মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে উমার বিন লুবাবা আল-মালেকী (নাইলুল আওতার-৪/২৪৩) । সুতরাং করোনার কারণে ঘরে আবদ্ধ পুরুষদের জন্য বাসায় ইতিকাফ করা নাজায়েজে হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারেনা, যদিও ইবনে লুবাবার মতে, ইতিকাফ পালনের জন্য মসজিদ শর্ত নয় বরং যেকোন স্থানেই ইতিকাফ করা যায়।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাসায় ইতিকাফ করার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অন্তত একটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সৗন্দরয রক্ষা ও তা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ সওয়াবের অংশীদার হতে পারে, সুতরাং শর্তের অনুপস্থিতির (মসজিদে ইতিকাফ) অজুহাতে পুরো ইবাদত বাদ দেয়ার চেয়ে বরং পরিস্থিতির আলোকে কখনো কখনো শর্ত সংযোজন ও বিয়োজন করে মূল ইবাদত পালন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়াই কল্যাণকর, যদি না সেসব শর্তসমুহ আক্বীদা, ঈমানিয়্যাত কিংবা ইবাদতের মৌলিকত্বে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেটি ইতিকাফের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

যেকোন ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে কাইফিয়্যাহ (ইবাদত পালনের পদ্ধতি) এবং কাম্মিয়্যাহর (পরিমাণ, সংখ্যা, স্থিতিকাল) প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইবাদতের মাকসাদ (উদ্দেশ্য) এর প্রতিও সমানভাবে গুরুত্বারোপ করাই ইবাদতের দাবি। বরং ইবাদতের মাকসাদ অর্জন করার জন্যই মূলত কাইফিয়্যাহ ও কাম্মিয়াহর উপস্থিতি। ইতিকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাকওয়া অর্জন, লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ কিংবা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমার নিশ্চয়তা পাওয়া । সুতরাং উল্লেখিত ক্ষেত্রে কাইফিয়্যাহতে শিথিলতা (মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ করা) প্রদর্শন করে বাসায় ইতিকাফ করলে ইতিকাফের মুল উদ্দেশ্য অর্জনে কোন ধররেন অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়না বলে বাসায় ইতিকাফ করা যেতে পারে।

বাসায় ইতিকাফ করার সাময়িক সুযোগ মূলত একটি অনিবার্য সমস্যার কারনে। সুতরাং যখন এই সমস্যাটি দূরীভূত হয়ে যাবে ইতিকাফ পালনের বিধানটি তার মূল অবস্থানে ফিরে গিয়ে পুরুষদের জন্য মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ করার বিধানটি পুন:স্থাপিত হবে। তবে এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় থেকেই মূলত মসজিদে যাওয়া সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ হয়েছে। সুতরাং যদি করোনার প্রকোপ বাড়ন্ত অবস্থায় থাকে কিংবা পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়া অবস্থায় মসজিদ সমূহ অবমুক্ত করে দেয়া দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি নিজের জীবনের ব্যাপারে কিংবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ ভয়ে থাকেন কিংবা নিরাপত্তার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে মসজিদ অবমুক্ত হলেও তার জন্য বাসায় ‍ইতিকাফ করা বৈধ হবে, যেহেতু আল্লাহ ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে নিষেধ করেছেন (বাক্বারা-১৯৫)।

তবে পরিস্থিতির আলোকে পুরুষদের জন্য বাসায় ইতিকাফ বৈধ হলেও, সেখানে কিছু শর্ত ও মানদণ্ডের অনুসরণ  করতে হবে । এ ক্ষেত্রে ইতিকাফের জায়গাটি নির্ধারিত হতে হবে, বিশেষ করে বাসায় নামাজ পড়ার জন্য যে জায়গাটি অন্যান্য সময় ব্যবহার করা হয় সেটি হলে উত্তম, যেটিকে ‘মাসজিদুল বাইত’ বলা হয়ে থাকে, একেকদিন বাসার একেক জায়গায় ইতিকাফ না করাই উত্তম, যাতে করে ইতিকাফের প্রতি কোন ধরণের অবহেলা পরিলক্ষিত না হয়। ইতিকাফ পালনকারী তার অতীব প্রয়োজন ছাড়া সেখান থেকে বের হবেনা, বরং পুরো ইতিকাফই সেখানে অবস্থান করবে। পুরো সময় সে বিভিন্ন ইবাদত পালন, কোরআন অধ্যয়ন, তিলাওয়াত, বিভিন্ন জিকিরের মাধ্যমে ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্যে অর্জনে সচেষ্ট থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে সবসময় তার প্রতি অনুগত হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। আল্লাহর প্রতি অনুগত থাকার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ইবাদতে লিপ্ত থাকা। কিন্তু যেকোনো আপতিত নেতিবাচক পরিস্থিতির কারনে যদি ইবাদত পালনে বাধাগ্রস্ত হয়, সেখানে ইসলাম আমাদের নানাধরনের সহজতার পথ বাতলে দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ সবসময় তার বান্দাকে তার কাছাকাছি দেখতে পছন্দ করেন। তাই ইসলাম পালনের পথ সহজ, সাবলীল ও সুন্দর ভাবে তিনি আমাদের জন্য উপস্থাপন করছেন (আতত্বালাক-০৬ ও ০৭; বাক্বারা-১৮৫)। সুতরাং ইসলাম কোন পরিস্থিতিই বর্জনীয় নয় বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে পালনীয় ও গ্রহণীয়।

লেখক: মুহাম্মদ মোস্তফা হোসাইস (শাহীন), পিএইচডি গবেষক ইউনিভার্সিটি অব মালায়া, মালয়েশিয়া।