আল জাজিরা
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা যদি সামনের দিকে এগোয় তাহলে তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়েনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের এই পদক্ষেপ রুখতে কূটনৈতিক তত্পরতা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন।
জার্মানির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শুক্রবার বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, পশ্চিমতীর দখল করে নিতে চাইলে ভয়াবহ পরিনতি অপেক্ষা করবে ইসরাইলের জন্য। এ ধরনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইসরাইলের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা নেমে আসবে। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আগামী জুলাইয়ে তাদের ভূখণ্ড পশ্চিম তীর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। ইফরাত নামে এই বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় সাত হাজার আবাসন ইউনিট তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে ওয়াশিংটন। জর্ডান উপত্যকার বড়ো একটি এলাকায় এই ইহুদি বসতি সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্টা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, ‘ফিলিস্তিনের জাতীয় কর্তৃপক্ষের পতন হলে কী ঘটবে? এই অঞ্চলে আরো বিশৃঙ্খলা এবং উগ্রপন্থা বাড়বে। ইসরাইল যদি সত্যি সত্যি জুলাইতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ করে তাহলে এতে জর্ডানের হাসমতিয়া রাজতন্ত্রের সঙ্গে বড়ো ধরনের সংঘাত শুরু হবে।’ পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ মিত্র জর্ডান। ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করা মাত্র দুটি আরব দেশের একটিও তারা। দখল সম্প্রসারণ ঘিরে ওই চুক্তি হুমকির মুখে পড়বে তেমনটি বলতে অস্বীকার করেন দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি হুমকি দিতে চাই না কিংবা ঝগড়ার পরিস্থিতিও তৈরি করতে চাই না, কিন্তু আমরা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখছি। আমরা ইউরোপের অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকের সঙ্গেই একমত হয়েছি যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিধরের আইন প্রয়োগ করা উচিত হবে না।’