মাশরাফির টোটকায় শফিউলের ‘ইংল্যান্ড’ জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন শফিউল ইসলাম। যদিও তিন ফরম্যাট মিলে ম্যাচ খেলেছেন ৯১টি (টেস্ট ১১, ওয়ানডে ৬০, টি-টোয়েন্টি ২০)। ইনজুরির কারণে জাতীয় দলে অনিয়মিত হলেও ডানহাতি এই পেসারের ভান্ডারে রয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুইবার ঐতিহাসিক জয়ের সুখস্মৃতি। দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়ে বড়ো ভূমিকা ছিল শফিউলের।

ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে প্রথমবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ ২০১০ সালে। ব্রিস্টলে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে শেষ ওভারের নাটকের নায়ক ছিলেন এই শফিউল। তারপর ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়া ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে জুটি এবং শফিউলের অপরাজিত ২৪ রান এখনো বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে টাটকা স্মৃতি।

ব্রিস্টলে দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। অধিনায়ক মাশরাফি বল তুলে দিয়েছিলেন শফিউলের হাতে এবং অধিনায়কের টোটকাতেই বল হাতে সফল হয়েছিলেন শফিউল। গলার কাঁটা হয়ে থাকা জনাথন ট্রটকে (৯৪) আউট করেছিলেন তিনি এবং রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

গত শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এক দশক পর ব্রিস্টলের সেই জয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেষ ওভারে মাশরাফির পরামর্শের কথা জানান শফিউল।

ঐ ওভারে প্রথম ২ বলে ৪ রান দেন ডানহাতি এই পেসার। তারপরই মাশরাফি এগিয়ে এসে স্লোয়ার করতে বলেন শফিউলকে। ৩০ বছর বয়সি এই পেসার বলেন, ‘প্রথম দুই বলে দুই রান করে চার নিয়েছিল। এরপর মাশরাফি ভাই এসে আমাকে বলল, দেখ আমরা তো ম্যাচ হয় হারব না হয় জিতব। তুই যেটা ভালো মনে হয় সেটাই কর। স্লোয়ারটাও তুই ট্রাই করতে পারিস। মাশরাফি ভাই তখন অনেক অভিজ্ঞ। আমি বলেছি ঠিক আছে। এরপর আমি স্লোয়ারটা ট্রাই করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে ঐ বলেই উইকেটটা পেয়েছিলাম। সেটা ছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম জয়। ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদের হারানোটা অনেক বড়ো একটা অর্জন ছিল আমার জন্য।’

ব্রিস্টলে বাংলাদেশের ২৩৭ রানের জবাবে তিন বল বাকি থাকতে ২৩১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ৯.৩ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন শফিউল। ব্যাটিংয়ে ২২ রান ও বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি।