কেরানীগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ

কেরানীগঞ্জে নিজ বাড়িতে এক কিশোরী গার্মেন্টস কর্মী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়ার সাতপাখি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আটককৃত তিন জনের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ইকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জানা যায়, সাতপাখি এলাকায় শুক্রবার রাতে এক কিশোরী গার্মেন্টস কর্মী তার নিজ বাসায় গণধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের ঘটনা যাতে কাউকে না বলে এজন্য তাকে তিন ধর্ষক বেদম মারধর করে ভয় দেখায়। ধর্ষকরা চলে যাওয়ার পরে ঐ গার্মেন্টসকর্মী ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এতে রাতেই ইকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মানিক, দুলাল ও শামীম নামে তিন জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে মানিক নৌ পুলিশের সদস্য হওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শাহাদাত হোসেন তাদের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি মিথ্যা সাজিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় খবর পেয়ে শতশত এলাকাবাসী ইকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করেন এবং তারা ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ আটককৃত তিন জনকে ফাঁড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পারগেন্ডারিয়ার সরকার বাড়ির মো. সাদেক হোসেন জানান, আটককৃত দুলাল ও শামীম এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ কনস্টেবল মানিকের ঐ মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খুব সখ্যতা রয়েছে। তারা আটককৃত তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দিয়ে তাদের শাস্তি দাবি করেন। এলাকার মো. স্বপন জানান, আটককৃত দুলাল ও শামীম এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

ইকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এলাকার লোকজন তাদের ফাঁসাতে এই ঘটনা সাজিয়েছেন। আমরা এই ঘটনায় আটক দুলাল ও শামীমকে ১৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি।