সারাদেশের প্রশাসন এখন ব্যস্ত করোনা সমস্যা মোকাবিলায়। রংপুরের ক্ষেত্রেও ঐ কথা প্রযোজ্য। এই সুযোগে অত্র অঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোত্সব চলিতেছে। গতকাল ইত্তেফাকের খবরে বলা হইয়াছে একটি চক্র করতোয়া নদী হইতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিয়া প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করিতেছে। নদী পাড়ের বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের এক লক্ষ ট্রাক বালু মজুত করিয়া রাখা হইয়াছে। নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে বোমা ও শ্যালোমেশিন বসাইয়া প্রতিযোগিতা করিয়া বালু উত্তোলন করা হইতেছে। এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীরপাড় ভাঙিয়া যাইতেছে। ভাঙিয়া যাইতেছে এলাকার পাকা ও কাঁচা রাস্তা এবং ফসলি জমি। এমনিতেই এইখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক, তাহার ওপর নূতন করিয়া যোগ হইয়াছে এই বিড়ম্বনা। এলাকাবাসী ইহার প্রতিবাদ করিলেও কোনো সুরাহা হইতেছে না।
জানা গিয়াছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হইতে করতোয়া নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করা হইয়াছে। এমনকি জারি করা হইয়াছে ১৪৪ ধারা। ইহার পরও কী করিয়া অবৈধ বালু উত্তোলন করা হয় তাহা বোধগম্য নহে। ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হইতেছে না? আমরা জানি, এই অঞ্চলে রহিয়াছেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। করোনাজনিত সমস্যা রহিয়াছে সঠিক। তাই বলিয়া এই ধরনের অপকর্মে নজরদারি বন্ধ থাকিতে পারে না। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠাকে অবশ্যই আমলে নিতে হইবে।
আমরা বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করি না। সমাজ ও সভ্যতার উন্নয়নে প্রাকৃতিক এই সম্পদ আমাদের প্রভূত কাজে লাগিতেছে নিঃসন্দেহে। এমনকি ইহাতে নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ হয় অনেকটা। কিন্তু ইহা পরিকল্পিতভাবে হওয়া চাই। প্রশাসনের নিকট হইতে সঠিকভাবে অনুমোদন লওয়া যাইতে পারে। নদী ও নদী সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধন করিয়া কোনো কিছু করিলে শেষপর্যন্ত হিতে বিপরীত হইতে বাধ্য। এইজন্য কীভাবে ও কোন স্থান হইতে বালু উত্তোলন করিতে হইবে সেই ব্যাপারে সরকারি গাইড লাইন বা নির্দেশনা থাকা দরকার। যত্রতত্র বালু উত্তোলন করা অনুচিত। এই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। এইক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা একান্ত কাম্য। একটি এলাকায় প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে, তেমনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এলাকার ভালো-মন্দ দেখিবার দায় রহিয়াছে।