প্রণোদনা কিন্তু পারিতোষিক নয়

লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত্তদের জন্য এপ্রিল মাসেই প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে অনুদান প্রদান চলছে। বোধ করি সরকার তার সাধ্যের মধ্যে যা কিছু করার তা করতে কার্পণ্য করছে না। কিন্তু প্রণোদনা বা অনুদান পাওয়ার জন্য এমন সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম মিডিয়ায় দেখছি—তাদের আসলে তা প্রয়োজন আছে কি না সেটা এক প্রশ্ন বটে। কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা প্রণোদনা চেয়েছেন! প্রাপ্ত সূত্রমতে, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৫২ লাখ মানুষ চিকিত্সা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার ওপরের মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামানোর ভয়াবহ স্বাস্থ্য সিন্ডিকেট কতটা মুনাফা করলে এমন হয় তা বুঝতে অর্থনীতির ‘অ’ না জানলেও চলে। করোনাকালে প্রায় বন্ধ ক্লিনিকগুলোতে রোগী ও টেস্টের আকাল চলছে—এই ঘাটতি তারা পূরণ করতে চাচ্ছে প্রণোদনার অর্থ দিয়ে। নিকট অতীতে দুঃস্থ শিল্পীদের অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন একজন অভিনেতাকে ৩৫ লাখ টাকা নিতে দেখেছি, তিনি কোনো মাপকাঠিতেই দুস্থ শিল্পীর পর্যায়ে পড়েন না। পাশাপাশি সত্তর দশকের জনপ্রিয় নায়িকা কবিতাকে দেখেছি না খেয়ে, বিনা চিকিত্সায় বস্তিতে অকালে মরতে। মনে রাখতে হবে প্রণোদনা কিন্তু পারিতোষিক বা ভোগ-বিলাসের সামগ্রী নয়। প্রণোদনা হচ্ছে অসহায় মানুষকে একরকম বাঁচিয়ে রাখার দাওয়াই।

মাহবুবুল হক ইকবাল

দক্ষিণআলেকান্দা, বরিশাল