আঙ্গরে হাসিনাই দেখলো...

‘করোনার ভাইরাস ছড়ানোয় লকডাউনের পর থিকা আঙ্গরে আর হে রহম কাম-কাজ নাই। কত দিন আর বইস্যা বইস্যা খাওয়া যায়? তাঁত বন্ধ, ভ্যান-রিকশা বন্ধ। খামু কি? চেয়ারম্যান কইছে কয়েক বার যা দিছে হেডাও হাসিনাই দিছে। অভাবী গোরে নিগা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এতো দরদ আগে বুঝব্যার নিগা পারিনাই। আর কিছু দিন পরেই ঈদ আসত্যাছে। কোন দিন এরহম ঈদের সময় কাটাই নাই। কম বেশি বাড়ির ব্যাহের নিগাই কাপড়-চোপড় কিনছি। সেমাই-চিনি, ম্যাল্যা কিছু কিনছি। এবার ভাবছিলাম কিছুই ওইবো না। কিন্তু হেই হাসিনাই (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আঙ্গরে পাশে দাঁড়াইছে। আইজক্যা সকালে মোবাইলে হ্যার পাঠাইন্যা আড়াই আজার ট্যাহা তুলছি। স্যামনের দিনগুলা যেমন পরিবার নিয়া ভাল চলমু। তেমনি ঈদও আঙ্গরে ভাল ক্যাটবো।’

সোমবার (১৮) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঈদ উপহারের ২ হাজার ৫’শ টাকা মোবাইলে পেয়ে এমনি আশার কথাগুলো জানাচ্ছিলেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের অভাবী সোনা মিয়া (৪৮), বেল্লাল হোসেন (৪৫), বাবলু মিয়া (৪৬), চ্যাংটার চরের সুলতান হোসেন, চৌবাড়িয়ার বাঙালা মিয়া। 

আরো পড়ুন: তারাগঞ্জে কৃষকের ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ 

তারা জানান, দয়াবান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। অভাবী গোরে নিগা হেই দয়াবান যোগ্য রাজা। যত দিন কামের সুযোগ ওইবো না প্রধানমন্ত্রী আফনে আঙ্গরে দেখবেন।   

ইউনিয়নের অসহায় মানুষগুলো সহয়তা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মাহমুদ জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ৫৪৭ টি পরিবারের নামের তালিকা ও মোবাইল নম্বর আমরা পাঠিয়েছিলাম। জেলার মধ্যে প্রথম আমাদের ইউনিয়নের অসহায় মানুষগুলো টাকা পাচ্ছে বলে খুবই আনন্দিত। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করছি। 

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার ৮২টি ইউনিয়ন এবং ৭টি পৌরসভার জন্য ৭৫ হাজার অসহায় দরিদ্র মানুষের তালিকা ও মোবাইল নম্বর পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। জেলায় প্রথম পেতে শুরু করেছে জালালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পর্যায়ক্রমে সবাই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা পেয়ে যাবেন। 

ইত্তেফাক/এএএম