স্টিল শিল্পের পুনরুদ্ধারে ৩ হাজার কোটি টাকা

ঋণ চায়

শিল্প

মালিকরা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অন্যান্য খাতের মত স্টিল ম্যানুফেকচারার্স খাতেও ক্ষতি হয়েছে। আমদানি নির্ভর এ শিল্পে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। এ সমিতির নেতারা বলছেন, এখাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দুই বছরের বেশি সময় লেগে যাবে। এ খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসাবে চায় তারা। এছাড়া আগামী বাজেটে বেশকিছু সুবিধা দাবি করেছেন এ সংগঠনের নেতারা।

গতকাল সোমবার অনলাইন প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ’র চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের স্টিল শিল্প বর্তমানে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ। স্টিল শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্ব্বপূর্ণ শিল্প সেক্টর। দেশের অবকাঠামো ও আবাসন নির্মাণে স্টিল সেক্টরের ভূমিকা অপরিসীম। এ সেক্টরে বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রায় তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থান এ শিল্পের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

স্টিল শিল্পের জন্য চার মাসের সমপরিমাণ অতিরিক্ত এলসি লিমিটের অনুমোদন প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তারা। এ শিল্পের উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও শ্রমিকদের চার মাসের বেতন-ভাতা ঋণ আকারে অন্তত ১২টি কিস্তিতে পরিশোধের অনুমোদন চেয়েছেন তারা। স্টিল শিল্পে আগামী এক বছরের জন্য কোন প্রকার অতিরিক্ত সুদ বা পেনাল ইন্টারেস্ট মুক্ত রাখার আবেদনের পাশাপাশি গ্রেস পিরিয়ডসহ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ চেয়েছেন তারা। একইসঙ্গে গ্যাস বিদ্যুত্ বিলের ক্ষেত্রেও সুবিধা দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা।

বাজেটে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করে বলা হয়, মেল্টেবল স্ত্র্যাপ আমদানি শুল্ক এক হাজার ৫০০ এর জায়গায় ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এমএস রড আমদানিতে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন তারা। স্টিল উত্পাদন পর্যায়ে আমদানিকৃত মেল্টেবল স্ত্র্যাপ হতে বিলেট টনপ্রতি এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫০ টাকায় পুনঃনির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।  বিলেট থেকে এমএস রড টনপ্রতি এক হাজার টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় পুনঃনির্ধারণ করার কথা বলেছেন তারা। আর স্টিল শিল্পের সকল কাঁচামাল আমদানি পণ্যের উপর আরোপিত ৫শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন এ সংগঠনের নেতারা। আর উেস কর বাতিলের প্রস্তাবও করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে যেকোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মুনাফা অর্জন করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে আমদানির বা বিক্রয় পর্যায় অগ্রিম আয়কর কর্তন অমূলক ও অযৌক্তিক।এখানে উল্লেখ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্টিল শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে অগ্রিম আয়কর বাবদ অতিরিক্ত বিপুল অঙ্কের টাকা কর্তন করেছেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রেক্ষিতে এনবিআর অযৌক্তিকভাবে বিপুল অংকের ভ্যাট আদায় করেছেন। উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানের কথা থাকলেও তা অদ্যবধি ফেরত পাওয়া যাায়নি। বর্তমান অর্থ সংকটের কারণে উক্ত অতিরিক্ত কর্তনকৃত টাকা ফেরত প্রদানসহ অগ্রিম আয়কর ও আগাম কর আরোপ বন্ধ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের স্টিল শিল্পকে এই ক্রান্তিকালে আর্থিক দুরবস্থা হতে সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে এ সংগঠন।