প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের পরীক্ষামূলক প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বাধীন একদল বিজ্ঞানী এই টিকা তৈরি করেন। এর কয়েক দিন পরই জার্মানিতে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে বিএনটি-১৬২ নামের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। জার্মান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বায়োএনটেক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অপর কোম্পানি পিজফারের সঙ্গে মিলে এই ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এবার প্রথমবারের মতো কানাডার নিজস্ব বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বে শতাধিক টিকা নিয়ে গবেষণা হলেও হাতে গোনা কয়েকটি টিকারই এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে প্রয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই টিকা কবে নাগাদ মানুষ সত্যিকার অর্থে করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। সারা গিলবার্টের তৈরি টিকা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল এজেন্সি বলছে, সেগুলো অনুমোদনের পর্যায়ে আসতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে? এখন পর্যন্ত ১১৫টি ভ্যাকসিন বা টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে দ্য কোয়ালিশন ফর প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস বা সিইপিআই। এর মধ্যে মানবদেহে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। তবে সেগুলো কবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল এজেন্সি ইএমএ বলছে, খুব দ্রুত হলেও এই টিকা অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত হতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগতে পারে? সংস্থাটির প্রধান মার্কো ক্যাভালেরি বলেছেন, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হলে এখন থেকে এক বছরের মধ্যে, অর্থাত্ ২০২১ সালের শুরুর দিকে কয়েকটি (টিকা) অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
সাধারণত কোনো রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। তবে কোভিড-১৯ মহামারির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের এবং আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদনের ধাপগুলো দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্যাভালেরি বলেন, ‘আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তার ওপর নির্ভর করে কিছু পূর্বাভাষ দেওয়া হচ্ছে মাত্র। তার পরও বলতে হবে, এক বছরের মধ্যে টিকা পাওয়া ভালো খবর হতে পারে। যতগুলো টিকা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তার সবগুলো হয়তো অনুমোদন পাবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলো টিকা আবিষ্কারে কয়েক শ কোটি ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবিষয়ক গবেষণায় ৮১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে জার্মানিও। Aন্যদিকে সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ ও সম্প্রচারমাধ্যম সিটিভির ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে তার দেশে তৈরি ভ্যাকসিনটির অনুমোদনের ঘোষণা দেন। সিবিসি জানিয়েছে, কানাডার হ্যালিফ্যাক্সের ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কানাডিয়ান সেন্টার ফর ভ্যাক্সিনোলজিতে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ঐ ব্রিফিংয়ে বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সময়ের দরকার হয়। এটি অবশ্যই সঠিকভাবে করা উচিত। তবে এটি আশাব্যঞ্জক খবর। ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল সফল হলে কানাডার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল এটি উত্পাদনের কাজ শুরু করবে। ভ্যাকসিনটি যেন দেশেই উত্পাদন করে বণ্টন করা যায়, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হবে ।—ডেইলি মেইল ও ডয়েচে ভেলে